মিরপুর স্টেডিয়ামের মূল ফটক দিয়ে ভিতরে ঢুকতেই দেখা গেল সিরিজের চার স্থানীয় আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল, মোর্শেদ আলি খান সুমন, গাজী সোহেল ও তানভীর রহমান গল্প করছেন। তারা যেখানে দাঁড়িয়ে গল্প করছেন, ঠিক পেছনের দেওয়ালে বিশাল আকৃতির একটি ব্যানার টাঙানো। যেখানে টাইগার অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। ব্ল্যাক ক্যাপস অধিনায়ক টম ল্যাথাম উইকেট কিপিং গ্লাভস হাতে দৃঢ় চিত্তে তাকিয়ে আছেন সামনে। দুজনের ছবির ঠিক মাঝখানে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের লোগো। ব্যানারটি ক্রিকেটপ্রেমীদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সিরিজের। আজ বেলা ১১টায় ওয়ানডে দিয়ে শুরু হচ্ছে দুই দেশের সিরিজ। ম্যাচ মাঠে গড়ানোর আগেই বিশাল আকৃতির ব্যানারটি উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যাট ও বলের লড়াইয়ের। উত্তাপ ছড়ানো সিরিজটি যতটা গুরুত্বপূর্ণ সফরকারী নিউজিল্যান্ডের, তার চেয়ে শত গুণ গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। মিরাজের নেতৃত্বে টাইগাররা খেলতে নামছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে সরাসরি খেলতে বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা সিরিজ জিতে মিরাজ বাহিনী এখন ৯ নম্বরে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে বাংলাদেশ এই প্রথম মিরাজের নেতৃত্বে খেলবে। দুই দেশ সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচটি হেরেছিল টাইগাররা এবং অধিনায়ক ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আজ খেলবেন নাজমুল। দুই দেশ সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সিরিজটি স্বাগতিকরা জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশ আতিথেয়তা দিয়েছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে। হেরেছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে মোটে দুটি। ২০১৩ সালে ঘরের মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। ব্ল্যাক ক্যাপসদের এখন পর্যন্ত এটাই একমাত্র হোয়াইটওয়াশ। ২০১০ সালে ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ টাইগাররা জিতেছিল ৪-০ ব্যবধানে। এবার সিরিজ জয়ের টার্গেটেই খেলবেন টাইগার অধিনায়ক মিরাজ। মিরাজের গতকালের সংবাদ সম্মেলনের পুরোটাই ছিল আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিয়ে। বৈশাখের খরতাপে উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে মিরাজ বাহিনী আজ খেলতে নামবে জয়ের টার্গেটে। জয় দিয়েই সিরিজ শুরু করতে চান টাইগার অধিনায়ক, ‘শুরুটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজ জয়ের টার্গেট নিয়ে যদি বলেন, তাহলে বলব সেভাবে টার্গেট সেট করা উচিত নয়। যেহেতু আমাদের তিনটা ম্যাচ আছে, সেজন্য সিরিজের প্রথম ম্যাচ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব প্রথম ম্যাচটা ভালো খেলে জিততে।’ সিরিজে স্কোয়াডের সব ক্রিকেটারই খেলানোর পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলে। দুটি সিরিজই জিতেছে মিরাজের নেতৃত্বে। অধিনায়ক মিরাজও দায়িত্ব নিয়ে ছন্দে রয়েছেন। বিসিবি তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই লম্বা সময়ে বাংলাদেশ ঘর ও বাইরে মিলিয়ে অনেক সিরিজ খেলবে। টাইগার অধিনায়ক জানান, এই লম্বা সময়ে প্রসেস ধরে রাখতে হবে সাফল্য পেতে, ‘২০২৭ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই একটা প্রসেসের ব্যাপার। ততদিন পর্যন্ত ধারাবাহিক সাফল্য পেতে প্রসেস ধরে রাখতে হবে। শেষ দুটি সিরিজ আমরা খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমাদের প্রসেসটা ভালো ছিল। খেয়াল করলে দেখবেন, ক্রিকেটাররা খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমার কাছে মনে হয় যে এ সিরিজ, সামনের সিরিজগুলোতে তারাও চেষ্টা করছে কীভাবে উন্নতি করতে হয়, সে অনুশীলনটা করছি।’ নিউজিল্যান্ড এসেছে মূল স্কোয়াডের অনেক ক্রিকেটারকে রেখে। মিচেল সান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, ম্যাট হেনরিদের মতো ক্রিকেটার না থাকায় খর্ব শক্তির দল বলা যায় নিউজিল্যান্ডকে। টাইগার অধিনায়ক মিরাজ সেটা মানছেন না, ‘নিউজিল্যান্ডকে ছোট করে দেখার কারণ নেই। যারাই খেলতে এসেছেন, তারা ভালো ক্রিকেটার বলেই খেলতে এসেছেন।’ দলটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিসিবি বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে উইকেট ছিল কালো। পাকিস্তানের বিপক্ষে উইকেট ছিল স্পোটিং। পেসাররা যেমন সুবিধা পেয়েছেন। রান পেয়েছেন ব্যাটাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই ঘরানার উইকেটের আশা টাইগার অধিনায়কের, ‘পাকিস্তান সিরিজে খুব ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলেছি। আশা করি, এ সিরিজেও ভালো উইকেটে খেলার জন্য।পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে ১১৪ রানে অলআউট হলেও ট্রু উইকেট ছিল।’
দুই দলের পরিসংখ্যানে বেশ এগিয়ে নিউজিল্যান্ড। ৪৬ ম্যাচের ১১টি জিতেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৩৪টি এবং একটিতে কোনো ফল হয়নি।