এই সংকটের মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের ব্যর্থতা। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল, তা এখন দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে। পাল্টা জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানে আমেরিকার এক ডজনের বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকলেও বহু জাহাজকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে, আর বিশ্ব অর্থনীতিতেও সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর পথ খুঁজতে এখন হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব এতটাই যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যেই চীনের কাছে সাহায্য চাইছেন। তাঁরা চাইছেন, বেইজিং যেন তার প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে রাজি করায়। এখানেই সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি ধরা পড়ে। একদিকে ট্রাম্প ও রুবিও চীনের সাহায্য চাইছেন, অন্যদিকে আমেরিকার সামগ্রিক নীতি এখনো চীনের বিরুদ্ধে সংঘাতমুখী। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন চলছেই। এই দ্বন্দ্বই দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতির চাপে আমেরিকার অবস্থান কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটন অবশ্য দাবি করছে, এই সংকটে চীনই নাকি সবচেয়ে বেশি বিপদে, কারণ তাদের জ্বালানির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু এই হিসাব পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চীন আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। বিপুল মজুত, বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা ও শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ফলে তারা এই ধাক্কা ভালোভাবেই সামলে নিয়েছে। ফলে যে ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আমেরিকা করেছিল, তা ঘটেনি।