চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র জাতিসংঘের ‘শান্তির নীতিমালা সমুন্নত রাখার’ দাবি প্রত্যাখ্যান করে ‘চীনই আসল হুমকি’ বলে অভিযোগ করেছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং।
শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই দাবি করার পর রোববার এক বিবৃতিতে তার প্রতিবাদ করেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ান দ্বীপকে তার নিজস্ব অঞ্চল হিসেবে দেখে চীন। তবে চীনের এই দৃষ্টিভঙ্গীকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইওয়ান সরকার। তাদের বক্তব্য, তাইওয়ানের ভবিষ্যতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু এর জনগণের।
রয়টার্স জানায়, বার্ষিক ওই নিরাপত্তা সম্মেলনে ওয়াং ই সতর্ক করে বলেন, কিছু দেশ ‘তাইওয়ানকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে’। এই দ্বীপকে ঘিরে উত্তেজনা উস্কে দেওয়ার জন্য জাপানকে দায়ী করেন তিনি। পাশাপাশি ‘জাতিসংঘের শান্তির নীতি সমুন্নত রাখার’ গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এরপর রোববার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের লিন বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য, বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা বা আন্তর্জাতিক আইন, যে দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখা হোক না, তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব কখনোই গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অন্তর্গত ছিল না।
ওয়াং জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য তুলে ধরার কথা বলে আর অঞ্চলিক উত্তেজনার জন্য অন্যান্য দেশকে দায়ী করে ‘বাগাড়ম্বর’ করেছেন বলে লিন দাবি করেন।
তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রকৃতপক্ষে, চীন সম্প্রতি আশপাশের এলাকায় সামরিক সামরিক উস্কানিতে লিপ্ত আর বারবার ও প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের শক্তির ব্যবহার বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার নীতি লঙ্ঘন করেছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ওয়াংয়ের দেওয়া বক্তব্য ‘আবারও এক অধিপত্যবাদী মানসিকতা উন্মোচিত করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আর তাদের কাজের ‘মিল নেই’ বলে দাবি করেছেন তিনি।
চীনের সামরিক বাহিনী প্রত্যেক দিনই তাইওয়ানের আশপাশে কোনো না কোন তৎপরতা চালায়। ডিসেম্বরে দ্বীপটির কাছে সর্বশেষ বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছিল তারা।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে লিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আসলে তাইওয়ানের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেই সম্মেলনটিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
চীনের দাবি, ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাপান তাইওয়ানকে চীনের শাসনে ‘ফিরিয়ে’ দিয়েছিল আর এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করা বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব ব্যবস্থা ও চীনের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সামিল।
অপরদিকে তাইপে সরকারের দাবি, জাপান তাইওয়ান দ্বীপকে চীন প্রজাতন্ত্রের কাছে হস্তান্তর করেছিল, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কাছে নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের তখন ‘অস্তিত্বই ছিল না’। তাই তাইওয়ানের ওপর বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্ব দাবি করার কোনো অধিকার নেই।
চীনের প্রজাতন্ত্রী সরকার ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির কাছে পরাজিত হয়। গৃহযুদ্ধে এই পরাজয়ের পর প্রজাতন্ত্রী সরকার দেশটির তাইওয়ান দ্বীপে পালিয়ে যায়। তারপর থেকে তাইওয়ানকে ‘চীন প্রজাতন্ত্র’ নাম দিয়ে শাসন করতে থাকে তারা, যে ধারা আজও চলমান।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম