ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট’-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে রিটে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিট আবেদনকারী এই আইনজীবী।
পরে আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিল চাওয়া হয়েছে রিটে।’
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। রাষ্ট্রের সব অঙ্গ এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার এই সংবিধান মানতে বাধ্য। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারও এই সংবিধানের অধীনে সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছে। সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া যেকোনো ক্ষমতার প্রয়োগ অবৈধ এবং বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়া প্রয়োজনীয়তা বা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে না। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট অনুষ্ঠানের মতো সংবিধান বহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতের জন্য তা একটি বিপজ্জনক নজির হয়ে থাকবে। যে কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং পরদিন গণভোটের ফলাফল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেট কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আরজি জানানো হয়েছে রিটে। প্রাথমিক শুনানির পর উচ্চ আদালত এই রুল জারি করলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় গণভোট এবং গণভোটের কার্যকারিতা অপ্রয়োগযোগ্য ঘোষণার পাশাপাশি গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিত করারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), আইন সচিব ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধানের কিছু মৌলিক সংস্কারের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটের আয়োজন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই গণভোটে সংস্কার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়ে ভোট দিয়েছেন মোট ভোটারের প্রায় ৩৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট। আর গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন, যা মোট ভোটারের ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে গণভোটে অংশ নেওয়া মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। ভোট দেননি ৫ কোটি ১৬০ ভোটার, যা মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।