সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্বগ্রহণ করেছে ২৪ ঘন্টা আগে। এরই মধ্যে দু’দফা সভা অনুষ্ঠিত হয়ে এই কমিটির। আগের সন্ধ্যায় পরিচিতি পর্ব শেষে গতকাল রাতে সভাপতি তামিমের সভাপতিত্বে বিসিবির সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজের সবকটি ম্যাচ ছিল দিবারাত্রির। তবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে এই সিরিজের খেলার সময়ে আসতে যাচ্ছে পরিবর্তন। কাল বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই সিরিজের সময় পরিবর্তন করার কথা জানান নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে নিউজিল্যান্ড সিরিজের সময় পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়ানডে ম্যাচে ১১টা অথবা সাড়ে ১১টা এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুপুর ২টা অথবা আড়াইটায় শুরু হতে পারে।’ বিসিবির এই সভায় নির্ধারণ হয়নি ক্রিকেট অপারেশন্সের দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সবাই মিলে ক্রিকেট অপারেশন্সে এখন কাউকে নিয়োগ দিব না। যদি কোনো প্রশ্ন আসে ক্রিকেট অপারেশন্স থেকে তখন সেটা আমরা বসে বোর্ডে সিদ্ধান্ত নিব।’
সভায় আরো সিদ্ধান্ত হয় যে, ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ এবং নারীদের বেতন ও ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা হবে।
এশিয়া কাপের আদলে আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ!
স্পোর্টস ডেস্ক : এশিয়া কাপের অনুকরণে ইউরো নেশন্স কাপের পরিকল্পনার কথা শোনা গিয়েছিল কদিন আগে। এবার জানা গেল, আফ্রিকাতেও এমন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা চলছে, যেটির নাম হবে আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ। আফ্রিকা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) তাদের কার্যক্রমের জন্য অর্থায়নের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগকে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে। গত বছর জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেডসি) প্রধান তাভেংওয়া মুকুলানিকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার মাধ্যমে সংস্থাটি কার্যকরভাবে পুনর্গঠিত হয়। সংস্থাটি বর্তমানে আর্থিকভাবে লাভজনক বলে বিবেচিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। তবে ২০২৭ সালের আগে এই আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি কাপ চালু করার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এই মুহূর্তে দুটি প্রধান বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে, টুর্নামেন্টের জন্য একটি আদর্শ সময় এবং এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়াটি কেমন হবে।
প্রথম বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে মহাদেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম দল দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের ওপর, যারা নিজেরাও আইসিসির পরবর্তী ভবিষ্যৎ সফর সূচি (এফটিপি) তৈরি হওয়ার অপেক্ষায় আছে। এই আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত জড়িত একটি সূত্র ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে জানিয়েছে , ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) নীতিগতভাবে এই ধারণার প্রতি আগ্রহী হলেও, প্রস্তাবিত কোনো টুর্নামেন্টে তারা তাদের প্রথম পছন্দের দল পাঠাতে পারবে কি না, তা নির্ধারণ করার জন্য তাদের নিজস্ব সূচিতে জায়গা প্রয়োজন।
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা এখন পাঁচ মাসের বিরতিতে আছে (মৌসুম শেষে শীতকালিন বিরতি), তবে সেপ্টেম্বরে আবার খেলা শুরু করবে তারা এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একটানা খেলা আছে, যখন বর্তমান এফটিপির মেয়াদ শেষ হবে। নতুন এফটিপি, যার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, তা আইসিসির পরবর্তী দুটি বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে এবং ২০২৭ সালের নভেম্বরের আগে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বছর, ভিক্টোরিয়া ফলসে মোসি-ও-তুনিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন উপলক্ষে একটি ত্রি-সিরিজে অংশগ্রহণের জন্য জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের (জেডসি) সঙ্গে আলোচনা করছে সিএসএ, যেখানে নামিবিয়ার থাকারও সম্ভাবনা আছে। সিরিজটি অনুষ্ঠিত হলে, এটি যেকোনো সম্ভাব্য আফ্রিকা কাপের জন্য একটি প্রাথমিক পর্ব হিসেবেও কাজ করবে। আপাতত সম্ভাব্য সময় ঠিক করা হয়েছে আগামী আগস্টকে। আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই আসর ওয়ানডে সংস্করণেও হতে পারে। এই সিরিজ থেকে প্রাপ্ত আয়ের কিছু অংশ এসিএকে দেওয়া হবে এবং আফ্রিকা কাপের জ্বালানি হিসেবে তা কাজ করবে।
গত এক বছরে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সফরে বেশ আগ্রহ ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুয়েতে সবশেষ টেস্ট খেলতে যাওয়ার ১১ বছর পর গত জুন-জুলাইয়ে সেখানে দুটি টেস্ট খেলেছে তারা, পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টও খেলেছে। তারা গত অক্টোবরে উইন্ডহোকের নতুন নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম ম্যাচ খেলার জন্য দলও পাঠিয়েছিল। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং নামিবিয়া যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে, পাশাপাশি জিম্বাবুয়েকে দুটি এবং নামিবিয়াকে একটি ভেন্যু বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ে বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে, কিন্তু সহযোগী দল হওয়ায় নামিবিয়াকে যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং তাদের স্থান নিশ্চিত নয়।