চলতি মাসেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। পদত্যাগকারী মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হবেন, তার ইঙ্গিত মিলতে পারে ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনই। আর যদি একজনের বেশি প্রার্থী না থাকেন, তাহলে ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকেই নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। একাধিক প্রার্থী হলে ভোট হবে ২০ আগস্ট।

বৃহস্পতিবার ( ৬ অগাস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন হলে ২০ আগস্ট সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। তবে সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন মূলত সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে। বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকায় দলটি যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁরই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার সাংবিধানিক যোগ্যতা থাকতে হবে। যিনি সংবিধানের অধীনে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন, তিনি এ পদে নির্বাচিত হতে পারবেন না।

সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কয়েকটি শর্ত রয়েছে। আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দায়মুক্ত না হওয়া দেউলিয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক বা আনুগত্য স্বীকারকারী, নৈতিক স্খলনের অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তির পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া ব্যক্তি, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশে দণ্ডিত ব্যক্তি, লাভজনক সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি কিংবা আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত কেউ রাষ্ট্রপতি পদেও প্রার্থী হতে পারবেন না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে উল্লেখিত অযোগ্যতাগুলোও এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজে থেকে প্রার্থী হতে পারেন না। তাঁর মনোনয়নপত্র একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হিসেবে দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি মনোনীত ব্যক্তির লিখিত সম্মতিও থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অধিবেশন না থাকলে স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ নির্ধারণ করবে এবং ওই দিনের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হবে। এ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরাই ভোট দেন। ভোট হয় সংসদ কক্ষে এবং তা প্রকাশ্য ব্যালটের মাধ্যমে। প্রতিটি ব্যালটপত্রে প্রার্থীদের নাম বর্ণানুক্রমে মুদ্রিত থাকে এবং ভোটদানের সময় সংসদ সদস্যকে নিজের স্বাক্ষর দিতে হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদে ক্ষমতাসীন বা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে বিরোধী দল সাধারণত রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেয় না। কারণ, সংখ্যার বিচারে তাদের জয়ের সুযোগ থাকে না। বর্তমান সংসদে বিএনপির বাইরে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ আরও কয়েকটি দল রয়েছে।

যদি যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একইভাবে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও পরে একজন ছাড়া সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে অবশিষ্ট প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। সে ক্ষেত্রে ১৬ আগস্টই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। অন্যথায় ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্ধারিত হবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews