সরকারি সতর্কতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা
সম্প্রতি ডেইলি স্টারসহ প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সরকারি নথির বরাত দিয়ে খবর এসেছে যে জাতীয় সংসদ, শাহবাগ, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, পুলিশ ও সেনা স্থাপনা, এমনকি বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব খবর যদি একেবারে ন্যূনতম মাত্রায়ও সত্যি হয়,
তাহলে এটিকে সাধারণ আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।
এর সঙ্গে আরেকটি উদ্বেগজনক খবর যুক্ত হয়েছে। টাইমস অব বাংলাদেশ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ সালে ‘তেহরিক-ই-তালেবান: মিলিট্যান্ট লিংকস উইদিন র্যাঙ্কস ট্রিগার ক্র্যাকডাউন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন ওয়ারেন্ট অফিসার নিখোঁজ থাকার পর তাঁকে কথিতভাবে টিটিপির একটি আস্তানায় শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর সদস্যসহ ২০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এসব দাবি এখনো তদন্তাধীন। তাই এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বলা ঠিক হবে না। কিন্তু অভিযোগ হিসেবেও বিষয়টি ভয়াবহ। কারণ, যদি উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক কোনোভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনীর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে, তাহলে সেটা আর শুধু কয়েকজন বিপথগামী তরুণের সমস্যা থাকে না, সেটা হয়ে দাঁড়ায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকাঠামোর ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা।
এই জায়গায় আমাদের ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংস আদর্শিক যুদ্ধ যারা চালাতে চায়, তারা সব সময় বন্দুক হাতে পাহাড়ে বা দুর্গম চর এলাকায় থাকে না। তারা এখন ফেসবুকে থাকে, ইউটিউবে থাকে, পডকাস্টে থাকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে থাকে, প্রকাশনা সংস্থা চালায়, বই প্রকাশ করে, ধর্মীয় আবেগের ভাষায় রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালায়। তারা নিজেদের ইসলামের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে হাজির করে। কিন্তু তাদের প্রকল্প ধর্মের নয়। তাদের প্রকল্প ক্ষমতার। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র, সমাজ, বিচারব্যবস্থা, নারী, সংখ্যালঘু, ভিন্নমত, এমনকি ভিন্নমত পোষণকারী আলেমদেরও টার্গেট করে।