ভারত সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি এলাকায় নতুন রেল প্রকল্প হাতে নিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেন্স নেক’ নামে পরিচিত, এই অঞ্চলে মাটির নিচ দিয়ে রেলপথ স্থাপন করা হবে। এখানে বিদ্যমান রেললাইনকে চার লেনে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে এই করিডর ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সেনাবাহিনী, যাত্রী ও সরবরাহের মূল পথ হিসেবে কাজ করে।
ভারত শীঘ্রই এই ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু করবে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, মূল লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং কোনো সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও উত্তর-পূর্বের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা। এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং এটি নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমানার কাছাকাছি অবস্থিত।
গুয়াহাটি থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ রেলপথ পশ্চিমবঙ্গের টিন মাইল হাট থেকে রঙ্গাপানি স্টেশন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “নিরাপত্তার দিক থেকে এই ভূগর্ভস্থ অংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি সংকটের সময়ও উত্তর-পূর্বকে বিচ্ছিন্ন হতে দেবে না।” এই প্রকল্প শুধু রেলের নয়, বরং ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের সময় সেনাবাহিনী এই করিডরের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছিল।
ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে ভারত সংকটকালে খাদ্য, সরবরাহ ও সেনা চলাচল অটুট রাখার পরিকল্পনা করছে। এটি প্রমাণ করে যে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সংযোগ কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা হবে না। যদিও বাংলাদেশে এই প্রকল্প নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে, তবে ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নিরাপত্তা ও সতর্কতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভারতের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে তারা কৌশলগত নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য যোগাযোগকে কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলতে চায় না। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি সতর্কতামূলক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া