ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের দুর্বল পারফরম্যান্স। এসব ব্যাংকে এখন আমানতকারীদের জমানো টাকার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা, যা ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোয় রাখা মোট আমানতের প্রায় ৩৬ শতাংশের বেশি।
ওই পাঁচ ব্যাংকে এখন গ্রাহকেরা আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বলা যায়, একদম আগ্রহ কম। এ কারণ ওই পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকেরা নিজেদের চাহিদামতো টাকা তুলতে পারছেন না। একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ফলে এসব ব্যাংক আমানত রেখে আটকে যাওয়ার শঙ্কা আছে গ্রাহকদের মধ্যে। উল্টো এসব ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাই বেশি। এসব কারণে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানতে প্রভাব ফেলছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই পাঁচটি ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ আছে। এ ছাড়া তৎকালীন সরকার–ঘনিষ্ঠ সমালোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এ ছাড়া প্রবাসীদের অনেকের মধ্যে এসব ব্যাংকে রেমিট্যান্সের অর্থ পাঠানোয় অনাগ্রহ আছে। কারণ, রেমিট্যান্সের অর্থ ঠিকমতো তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন।
এ ছাড়া যেকোনো ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত না হলে গ্রাহকেরা আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হন।