জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কওমি মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হবে—এমন অপপ্রচার চলছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এটি একটি নির্জলা মিথ্যাচার! কওমি মাদরাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পার্ক ও খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মো. নাসির উদ্দীন। ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব.) এর পক্ষে এই নির্বাচনি জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অপপ্রচার। বলা হয় যদি জামায়াতে ইসলামী বা ১১ দল ক্ষমতায় যায়, তাহলে নাকি কওমি মাদরাসা বন্ধ করে দেবে। এটি নির্জলা মিথ্যাচার! কওমি মাদরাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা। তারাই ইসলামি শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধরে রেখেছেন।
তিনি বলেন, আমরা তাদের (কওমি মাদরাসা) সঙ্গে ডায়ালগ করে, পরামর্শ করে এই শিক্ষার ম্যাক্সিমাইজ কীভাবে করা যায়, সর্বোচ্চ উৎকৃষ্ট উৎকর্ষ কীভাবে করা যায়—তা ইনশাআল্লাহ আমরা করবো। আমরা মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের আমির বলেন, বলা হচ্ছে মসজিদগুলো থেকে ইমামদের সরিয়ে দেওয়া হবে। তো সেই ইমামতি কি আমি করবো? ইমাম যারা আছেন মর্যাদার সঙ্গে তারা ইমামতি করবেন। এখন একটা মর্যাদার অভাব। ইমাম সাহেবরা, খতিব সাহেবরা ইমামতি করেন, খুতবা দেন কিন্তু মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে তাদের কোনো অবদান নাই, অবস্থান নাই।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ইনশাআল্লাহ সেবার সুযোগ পেলে প্রত্যেকটা মসজিদে ইমাম ও খতিব যারা থাকবেন, তারা হবেন সেই পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কারণ তারাই বুঝবেন একটা মসজিদের মর্যাদা কীভাবে সবচাইতে ওপরে তুলে ধরতে হয়।
জামায়াত আমির বলেন, আমি ১৮ কোটি মজলুম মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমি এখানে দাঁড়িয়েছি সেইসব মানুষের পক্ষে, যাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর গুম করে রাখা হয়েছিল। অনেকেই ফিরে আসেননি, অনেকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা আজও অজানা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে এদেশে আর বীর সন্তানের জন্ম হবে না। আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ ও ওসমান হাদির মতো শহীদদের হত্যার বিচার এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
ইএইচটি/এমএমকে