কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার ভারত সফর শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত ও বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়েই তার এ সফর।

কার্নির এ সফর ২০২৩ সালে শিখ কর্মী হত্যাকাণ্ড ইস্যুতে দু’দেশের সম্পর্ক ভেঙে পড়ার পর এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই সময় অটোয়া অভিযোগ করেছিল যে, কানাডায় শিখ কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অভিযানে নয়াদিল্লি জড়িত ছিল।

মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, মুম্বাইয়ে পৌঁছে কার্নির ব্যবসায়িক নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে সোমবার তিনি রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করবেন।

কার্নির দফতর জানিয়েছে, আলোচনা হবে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মানবসম্পদ ও সংস্কৃতি এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন অংশীদারিত্ব নিয়ে। গত বছর দুই দেশ প্রস্তাবিত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়।

কার্নি ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৫১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

কার্নি ক্ষমতায় আসার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার ২০২৩ সালে কানাডার নাগরিক হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে। ভারত এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। পরে ২০২৪ সালে উভয় দেশ শীর্ষ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে।

২০২৫ সালের মার্চে কার্নি দায়িত্ব নেয়ার পর সম্পর্কের উন্নতি শুরু হয় এবং পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়া হয়। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনন্দ বলেছেন, আন্তঃদেশীয় দমন-পীড়ন নিয়ে উদ্বেগ তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

ভারত, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে আগ্রহী। দেশটি আশা করছে, কানাডা তার উচ্চাকাক্ষী পারমাণবিক বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় সহায়তা করবে।

ভারত সফর শেষে কার্নি অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার সাথে বাণিজ্য বাড়ানো তার কৌশলের অংশ।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার আগে কানাডার ৭৫ শতাংশের বেশি রফতানি যুক্তরাষ্ট্রে যেত এবং দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যদিও উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বাণিজ্য এখনো শুল্কমুক্ত, তবু খাতভিত্তিক শুল্ক আরোপ ও চুক্তি বাতিলের আশঙ্কা কানাডার অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে কার্নি ইউরোপ ও এশিয়ার সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মাটির উপাদান সরবরাহ শৃঙ্খলে সহযোগিতা জোরদার করা তার সফরের অন্যতম লক্ষ্য। বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews