একসময় কয়লা পুড়িয়ে বাষ্প তৈরি করে সেই বাষ্পে চলত রেলের ইঞ্জিন। কু-উ ঝিকঝিক ঝিকঝিক আওয়াজ তুলে হেলেদুলে চলত ট্রেন। সে ইঞ্জিন এখন আর নেই। কয়লার জায়গা নিয়েছে ডিজেল। রেলকামরায় উঠতে বা নামতে গিয়ে পা পিছলে অনেকেই রেলের চাকায় কাটা পড়ে মারা যায় কিংবা হাড়গোড় ভাঙে। এ নিয়েই হয়তো ছড়াকার লিখেছেন, ‘রেলগাড়ি ঝমাঝম/ পা পিছলে আলুর দম।’
আমাদের দেশে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম যাত্রীবান্ধব ছিল না। রেলকামরার দরজার হাতল ধরে খাড়া ধাতব সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হতো। সম্প্রতি একটি পরিবর্তন হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম উঁচু করা হয়েছে। এখন হেঁটেই দরজা দিয়ে ঢোকা যায়। এমনকি হুইলচেয়ার নিয়েও। তারপরও অনেক স্টেশনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগেনি। খোদ রাজধানীর কমলাপুরে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে রেললাইন গেছে পদ্মা সেতুর দিকে। এই প্ল্যাটফর্ম কেন উঁচু করে বানানো হলো না, তা আমার বুঝে আসে না।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনটি শহরের মধ্যে। এটির প্ল্যাটফর্মও রয়ে গেছে আগের মতো নিচু। ট্রেনে উঠতে বা ট্রেন থেকে নামতে শিশু, নারী ও প্রবীণদের যে কী কষ্ট হয়, তা না দেখলে বোঝা যাবে না। এই স্টেশনে কয়েকটি ব্যানার দেখলাম। সেখানে লেখা—কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম উঁচুকরণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন চাই।