যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। বৃহস্পতিবার এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেনা ও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত একটি লক্ষ্যবস্তুকে কেন্দ্র করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত স্থান, লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
এদিকে একই সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ। বিস্ফোরণের কারণ কিংবা সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বন্দর আব্বাস ইরানের অন্যতম কৌশলগত বন্দর এবং পারস্য উপসাগরীয় বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল দিয়েই আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো নিরাপত্তা ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং বন্দর আব্বাসের বিস্ফোরণ নিয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে সীমিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করবে না এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থেকে ইরান যে সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে, তা সফল হবে না। তিনি বলেন, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন নন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক আরও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র : সিএনএন, ফার্স নিউজ