সিরিজ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের ফাঁদে পাকিস্তানকেই ধরাশায়ী করেছে তারা। লাহোরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সফরকারীদের জয় ৪১ রানে।
আগের ম্যাচের মতো বড় পুঁজি গড়তে পারেনি অজিরা। জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিনের ফিফটিতে ৯ উইকেটে আসে ২৩১ রান। জবাবে ৪৪ ওভারে পাকিস্তান অলআউট হয় ১৯০ রানে।
ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন এলিস। ১৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো ম্যাচে দু’টির বেশি উইকেট পেলেন এই পেসার।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাচের প্রথম বলে অ্যালেক্স কেয়ারিকে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ম্যাথু শর্টও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি (২৪ বলে ১৫)। আর মার্নাস লাবুশেন এবার আউট হন ৫ রানে।
৫১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দলকে টানেন জশ ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। যদিও তাদের রান তোলার গতি ছিল খুবই মন্থর। ৫১ রানের জুটি গড়েন তারা ৯৩ বলে।
ফিফটির পরপরই আরাফাত মিনহাসের বলে বোল্ড হন ইংলিস। তার ব্যাটে আসে ৭৪ বলে ৫১ রান। গ্রিনও ফিফটির পর ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। ৯২ বলে ৫৩ রান নিয়ে আউট হন গ্রিন।
এছাড়া ম্যাট রেনশ ৪৩ বলে ৪৩ রান করেন। আর শেষ দিকে ওলেভার পিক করেন ৩১ রান। তাতেই দুই শ’ পেরোয় অজিরা। বাকিরা আর কেউ তেমন ভালো করতে পারেনি।
শাহিন শাহ আফ্রিদি ৩, হারিস রউফ- আরাফাত মিনহাস ও আবরার আহমেদ নেন জোড়া উইকেট করে।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনার মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় পাকিস্তান। শুরুটা ভালো করলেও টিকতে পারেননি বাবর আজম (১৬ বলে ১৬)। তাকে ফেরান এলিস।
আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই সালমান আলি আগাকে বিদায় করেন শর্ট। কয়েক ওভার পর তার বলেই ফিরতি ক্যাচ দেন আব্দুল সামাদ। ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
প্রথম ম্যাচে ফিফটির পর এবারো দলকে টানছিলেন যিনি, সেই ঘাজি ঘোরিকে ৩৭ রানে জ্যাম্পা থামিয়ে দিলে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান। ৭৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা।
এরপর সপ্তম উইকেট জুটিতে মিনহাসের সাথে ৫৯ রানের জুটি গড়েন শাদাব। অষ্টম উইকেটে শাহিন আফ্রিদির সাথে ৩১ রানে জুটি গড়ার পর নবম উইকেটে হারিসের সাথে ২১ রানের জুটি গড়েন তিনি।
এই ছোট ছোট জুটিতে ভর করে পাকিস্তান জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। তবে ইনিংসের ৪৪তম ওভারের শেষ বলে রউফ ও ৪৫তম ওভারের প্রথম বলে শাদাব আউট হলে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান।
শাদাব আউট হন ১০৪ বলে ৭১ রান করে। তাতেই ৪১ রানে জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। এলিস ছাড়াও ৩ উইকেট নেন শর্ট।
আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজের শেষ ম্যাচ হবে একই মাঠে। সেখানেই নির্ধারণ হবে সিরিজের ভাগ্য।