খেলার ফলাফল শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে সমর্থকদের মনেও। প্রিয় দল জিতলে যেমন আনন্দে ভাসেন ভক্তরা, তেমনি হারলে অনেকেই হতাশা, ক্ষোভ কিংবা বিষণ্নতায় ভুগতে শুরু করেন। চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিদায়ের পর বাংলাদেশের একজন সমর্থকের আত্মহত্যার খবরও শোনা গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একনিষ্ঠ সমর্থকেরা অনেক সময় দলের সাফল্য-ব্যর্থতাকে নিজেদের ব্যক্তিগত অর্জন বা ব্যর্থতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘স্পোর্টস ফ্যান ব্লুজ’, যা দীর্ঘস্থায়ী হলে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে এবং মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলার ফলাফল সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই পরাজয়ের দায় নিজের ওপর নেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং হতাশা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। চলুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক-
আবেগ প্রকাশের জন্য সীমিত সময় রাখুন
দল হারার পর স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হতে পারে। তবে সেই হতাশাকে দীর্ঘ সময় ধরে লালন না করে ৪৫ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে বন্ধু বা সহসমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করে মন হালকা করার চেষ্টা করুন। এরপর অন্য কাজে মনোযোগ দিন, যাতে নেতিবাচক চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণ এড়িয়ে চলুন
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ট্রল ও বিদ্রূপ আরও হতাশ করে তুলতে পারে। একইভাবে দীর্ঘ সময় ধরে পোস্ট-ম্যাচ বিশ্লেষণ দেখলে বা শুনলে পরাজয়ের অনুভূতি আরও তীব্র হতে পারে।
শরীরচর্চার মাধ্যমে চাপ কমান
হারের ধাক্কা সামলাতে ব্যায়াম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমায় এবং ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে মন ভালো করতে সাহায্য করে।
সৃজনশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
মনকে খেলার হতাশা থেকে দূরে রাখতে গান শোনা, বই পড়া, ডায়েরি লেখা, ছবি আঁকা কিংবা পছন্দের কোনো পডকাস্ট শোনার মতো কাজে সময় দিতে পারেন। ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামও মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।
খেলার বাইরে নতুন আগ্রহ তৈরি করুন
নিজের পরিচয়কে শুধু একটি দলের সমর্থকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের শখ গড়ে তুলুন। রান্না, বই পড়া, দাবা খেলা, নতুন ভাষা শেখা বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে যুক্ত থাকলে একটি ম্যাচের ফলাফল আপনার মানসিক অবস্থাকে তুলনামূলক কম প্রভাবিত করবে।
মনে রাখুন, ম্যাচের ফল আপনার নিয়ন্ত্রণে নয়
দল হারার জন্য নিজেকে দায়ী করার কোনো কারণ নেই। মাঠে খেলছেন ফুটবলাররা, তাই জয়-পরাজয়ের দায়িত্বও তাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। সমর্থক হিসেবে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেই হতাশা যেন নিজের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।
দীর্ঘদিন বিষণ্নতা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
পরাজয়ের পর কয়েক দিন মন খারাপ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে যদি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, খাওয়ায় অনীহা বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত দেখা দেয়, তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা মূলত বিনোদনের অংশ। তাই একটি ম্যাচের ফলাফল যেন ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সুস্থতা বা আত্মমর্যাদাকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন