মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, তানজিদ তামিম ও শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটার। এই ছয় ক্রিকেটার এখন পাকিস্তানের টি-২০ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পিএসএল খেলছেন। এরা যখন পিএসএলে ব্যস্ত, তখন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, মাহামুদুল হাসান, জাকির আলি অনীক, রিপন মণ্ডলরা মিরপুর স্টেডিয়ামে ফিটনেস অনুশীলন করছেন। আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখেই এ ফিটনেস ক্যাম্প। ধাপে ধাপে অনুশীলন এগোবে স্কিল ডেভেলপমেন্টের দিকে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং, প্রতিটি বিভাগেই আলাদা করে সেসন করা হবে। অনুশীলন পুরোপুরি তদারকি করছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স। সঙ্গে রয়েছেন সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, ফিল্ডিং কোচ জেমস পামেন্ট। কোচ সোহেল ইসলাম ছাড়াও রয়েছেন ট্রেনার হিসেবে ইফতেখারুল ইফতি। ক্রিকেটাররা যখন পুরোপুরি ব্যস্ত ফিটনেস বাড়াতে, তখন কিউরেটর টনি হেমিং ব্যস্ত উইকেট বানাতে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলবে। সিরিজে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স পুরোপুরি নির্ভরশীল উইকেটের ওপর। সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষেও। প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দিতে কি স্পিন উইকেট বানাবে? বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেন। ব্যাটার ও বোলাররা যাতে পারফরম্যান্স করতে পারেন, সেজন্য স্পোর্টিং উইকেট বানারোর নির্দেশনা রয়েছে বলেন খালেদ মাসুদ, ‘বিশ্ব ক্রিকেটের দিকে নজর দিলেই দেখবেন, প্রতিটি ম্যাচেই রান হচ্ছে। আমরাও চাই ব্যাটাররা রান করুন। বোলাররা উইকেট নিন। দর্শকরাও ম্যাচ উপভোগ করুন। সেজন্য শতভাগ স্পোর্টিং উইকেট বানানোর পরিকল্পনা আমাদের।’
মিরপুরের কিউইরেট হিসেবে প্রায় এক যুগ কাজ করে শ্রীলঙ্কার গামিনি ডি সিলভা। শ্রীলঙ্কান কিউরেটরের বানানো উইকেটে খেলে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষকে। কিন্তু উইকেটের আচরণ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্রিকেটকে একটি পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিসিবি নিয়োগ দেয় অস্ট্রেলিয়ার টনি হেমিংকে। তার বানানো উইকেটে খেলেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। এবারও জয়ের টার্গেট মিরাজ বাহিনীর। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য আইসিসির র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে দলগুলোকে। পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ এখন ৯ নম্বরে। চলতি বছর নিউজিল্যান্ড ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবেন মিরাজরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে প্রথমটি ছাড়া বাকি দুটিতে রান হয়েছে। সিরিজের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ১১৬। সর্বোচ্চ ২৯০। এবারের সিরিজে ৩০০ রানের উইকেট বানানোর পরিকল্পনার কথা বলেন বিসিবি পরিচালক, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে দেখবেন অনায়াশে ৩০০, ৩৫০ রান হচ্ছে ম্যাচগুলোতে। ৪০০ রানও হচ্ছে। এজন্য ভালো উইকেট জরুরি। ব্যাটাররা সাবলীলভাবে স্ট্রোক খেলতে পারলেই বড় স্কোর ওঠে। এজন্য উইকেটে আবার বাউন্স থাকাও জরুরি। পেসাররাও বাড়তি সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে খেয়াল করবেন, ওয়ানডে উইকেটগুলোতে বলের মুভমেন্ট কম থাকে। আমরা চাই নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রতিটি ওয়ানডেতে ৩০০ রানের মতো স্কোর হোক। টি-২০ ক্রিকেটে ১৫০ রানের বেশি হোক।’ সিরিজ খেলতে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পা রাখবে নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে তিনটি যথাক্রমে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল। প্রথম দুটি ওয়ানডে মিরপুরে এবং শেষটি চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ ও ২৯ এপ্রিল টি-২০ চট্টগ্রামে এবং ২ মে ঢাকায় তৃতীয় টি-২০ ম্যাচ।