নামে, ভারে, প্রেক্ষাপটে কিংবা ভেন্যু বিবেচনায় আজ থেকে শুরু হওয়া ডারউইন টেস্টের আগে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে একটি প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসছে, ‘ম্যাচটি আসলে কয়দিনে যেতে পারে?’ প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই হয়তো ম্যাচের আয়ু খুব বেশি দেখছে না অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া। সেটি জিজ্ঞেস করতেই উত্তরে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স চেহারায় হাসির ঝিলিক রেখে বললেন, ‘কে বলতে পারে?’ যদিও ডারউইনের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেন্যুগুলোর উইকেটের মতো এতটা পেসবান্ধব নয়। বরং এই ভেন্যুতে স্পিনারদেরও যথেষ্ট সহায়তা থাকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতে ব্যাট করার জন্যও বেশ আদর্শ হবে মারারার বাইশ গজ। তবে আদর্শ ব্যাটিং সারফেসেও তো অনেকবার বাংলাদেশের ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সবচেয়ে তরতাজা ঘটনাটি এই কদিন আগের। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছেন শান্তরা। ক্যাম্পবেল থমসন নামক ২২ পেরোনো তরুণ পেসারের তোপে মাত্র ৫৪ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে আবার ভোগান্তির কারণ ছিলেন অফ স্পিনার কোরি রকিচিওলি। অজিদের পাইপলাইনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে যখন বাংলাদেশের এই অবস্থা, মূল দলের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জটা কঠিনই হওয়ার কথা। তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকা করে দেখছেন না কামিন্স। বরং যথেষ্ট সমীহ করতে চান তিনি, ‘নিশ্চিত নই (বাংলাদেশের এই দলকে কীভাবে রেট করবেন), হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞেস করলে আরও কিছু জানাতে পারব। তবে হ্যাঁ, ওরা এমন একটি দল যাদের বিরুদ্ধে কোনো আইসিসি ইভেন্টে নামলে বেশ নার্ভাস লাগতেই পারে, কারণ ওদের দলে বেশ কিছু বড় মাপের খেলোয়াড় আছে।’
প্রতিপক্ষ যেখানে সমীহ করছেন সেখানে বাংলাদেশ দলে কেন আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়বে? বরং পাল্টা হুঙ্কার দিয়েই রাখলেন অধিনায়ক শান্ত। বললেন, ‘২৩ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়।’
২০০৩ সালে সবশেষ যখন এই অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল বাংলাদেশ তখন টেস্ট আঙিনায় শিশু। আনকোরা অবস্থায় প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে যাওয়া দলটাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টাও হয়েছিলো। সাবেক অজি ব্যাটার ডেভিড হুকস তো বলেছিলেন একদিনেও টেস্ট জিততে পারে অস্ট্রেলিয়া। তেমনটা না হলেও দুই টেস্টেই বাংলাদেশ হেরেছিলো ইনিংস ব্যবধানে। এবার সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া দেখাচ্ছে ভয়। তবে শান্ত এসব ইতিহাস ও সমালোচনাকে স্রেফ অতীত বলেই উড়িয়ে দিচ্ছেন। পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দুই দশক আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়।
আজ সকালে (বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টা) ডারউইনে শুরু হয়ে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন অধিনায়ক শান্ত। ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতা ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠতেই এই ব্যাটার দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, ‘নির্বাচকের সঙ্গে এটাই কথা হচ্ছিল যে এখন আর সেই ২৩ বছর আগের মতো এই দলটা নাই। ওনার এই বিশ্বাস আছে এই দলটার উপরে। অনুশীলন ম্যাচের একটা খারাপ দিন যেতেই পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি এমন দিন টেস্ট ম্যাচে আসবে না।’
ডারউইনের উইকেটে সবুজের আভাস স্পষ্ট। পেসাররা স্বাভাবিকভাবেই এখানে বাড়তি সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে প্রস্তুতি ম্যাচের পারফরম্যান্স ভাবাচ্ছে সমর্থকদের। তবে শান্ত মনে করেন, অতীত বা প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে পড়ে থাকার চেয়ে মূল লড়াইয়ে মনোযোগ দেওয়াটাই আসল, ‘ওটা একটা প্রিপারেশন ফেজ ছিল। এখন আগামীকালকে (আজ) থেকে একটা ব্যাটল শুরু হবে, ওখানে আমরা কত ভালোভাবে ওই চ্যালেঞ্জটা একসেপ্ট করছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেটার জন্য সবাই প্রস্তুত।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাদা পোশাকে খেলার সুযোগ খুব একটা পায় না বাংলাদেশ। দুই যুগের বেশি সময় পর এই ফরম্যাটে সুযোগ আসায় দলকে বড় সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি। শান্তর স্পষ্ট বার্তা- প্রস্তুতি ম্যাচে যা-ই হোক না কেন, মূল লড়াইয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।