ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর প্রথম ধাপ শেষে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পরের ধাপে এই যুদ্ধ কোনো দিকে মোড় নেবে? সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ স্পষ্ট- সঙ্ঘাতের ব্যাপক বিস্তার, সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ অথবা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে অগ্রসর হওয়া।

প্রথম সম্ভাবনা, সঙ্ঘাতের বিস্তার। ইরান যদি সরাসরি কিংবা তার আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে বড় ধরনের পাল্টা আঘাত হানে, তবে এই সঙ্ঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ, ইরাকভিত্তিক শিয়া মিলিশিয়া, সিরিয়ার ইরানপন্থী গোষ্ঠী কিংবা হুথিরা সক্রিয় হলে যুদ্ধ বহু ফ্রন্টে রূপ নেবে। এতে ইসরাইলের ওপর সামরিক চাপ যেমন বাড়বে, তেমনই যুক্তরাষ্ট্রকেও আরো সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে। তখন এই সঙ্ঘাত কেবল আঞ্চলিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা সঙ্কটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো নিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই সীমিত আকারে হামলা চালাবে; কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এই পরিস্থিতিতে সাইবার হামলা, ড্রোন যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং গোয়েন্দা অভিযান আরো জোরদার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার কৌশল নেবে; অন্য দিকে ইরান সরাসরি মোকাবেলার বদলে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বা ছায়াযুদ্ধ বাড়িয়ে চাপ সৃষ্টির নীতিতে হাঁটবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই পথটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত, কারণ কেউই এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বিপুল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য বহন করতে প্রস্তুত নয়।

এই পর্যায়ে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার এক দিকে যেমন মার্কিন নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ, অন্য দিকে তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতারও পক্ষে। ফলে তারা প্রকাশ্যে যুদ্ধ সমর্থন না করলেও পর্দার আড়ালে উত্তেজনা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়াতে পারে। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো ও অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

তৃতীয় সম্ভাবনা হলো সীমিত সমঝোতা। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে একটি সীমিত সমঝোতায় পৌঁছানো। চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাববলয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছে। অন্য দিকে ইউরোপও নতুন শরণার্থী সঙ্কট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। ফলে জাতিসঙ্ঘ, আঞ্চলিক শক্তি এবং পরাশক্তিগুলোর মধ্যস্থতায় একটি ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ বা নতুন নিরাপত্তা আলোচনার উদ্যোগ দেখা যেতে পারে।

তবে যেকোনো পথেই এগোক না কেন, এটি স্পষ্ট যে, এই সঙ্ঘাত মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মানচিত্র আমূল বদলে দিচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সমীকরণ এখন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। আগামী ধাপে শুধু সামরিক সংঘর্ষ নয়; বরং প্রযুক্তি, জ্বালানি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক জোট রাজনীতিই হবে মূলনির্ধারক শক্তি। তাই ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর পরবর্তী ধাপই মূলত নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো কেমন হবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোট এবং ‘বহুমাত্রিক চাপভিত্তিক যুদ্ধ’
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পর্যায়ের সামরিক ও কৌশলগত অভিযান শুরু করেন, তবে সেটি সম্ভবত প্রথাগত পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধের চেয়ে একটি ‘বহুমাত্রিক চাপভিত্তিক যুদ্ধের’ রূপ নেবে। এর লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক বিজয় নয়; বরং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

এই সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে প্রিসিশন স্ট্রাইক বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন অবকাঠামো এবং ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কোরের কমান্ড কাঠামোকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বিমান হামলা, সাইবার অপারেশন, গোয়েন্দা নাশকতা এবং বিশেষ বাহিনীর গোপন অভিযানের একটি সমন্বিত রূপ দেখা যেতে পারে। এর লক্ষ্য থাকবে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এমনভাবে পঙ্গু করে দেওয়া, যাতে তারা সরাসরি বড় আকারের কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে না পারে।

প্রক্সি ফ্রন্ট বিচ্ছিন্নকরণ হবে আরেকটি লক্ষ্য। হিজবুল্লাহ, হুথি, সিরিয়া ও ইরাকভিত্তিক শিয়া গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স নেটওয়ার্ক’ বা অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই নতুন কৌশলের বড় অংশ হতে পারে এই নেটওয়ার্ককে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এর মাধ্যমে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র চাইবে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাববলয় ভেঙে দিতে, যাতে তেহরান ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে সমন্বিত সামরিক চাপ তৈরি করতে না পারে।

অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা করবে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতির মতো আবারো কঠোর নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা, তেল রফতানিতে বাধা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর উদ্দেশ্য হবে ইরানের অর্থনীতিকে এমন এক পঙ্গু অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, যাতে দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাত পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়ে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়।

ডিটারেন্স রিসেট বা নতুন প্রতিরোধ কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মনে করছে, গত কয়েক বছরে ইরান ধীরে ধীরে আঞ্চলিকভাবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তাই নতুন যুদ্ধের লক্ষ্য হতে পারে এমন একটি কড়া সামরিক বার্তা দেয়া, যাতে ভবিষ্যতে ইরান সরাসরি বা প্রক্সির মাধ্যমে যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতে ভয় পায়।

তবে এই কৌশলের বড় ঝুঁকিও রয়েছে। ইরান সরাসরি সামরিক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল হলেও দেশটির কাছে এখনো বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সাইবার সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে তা দ্রুত হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর বা পূর্ব ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।

সবমিলিয়ে সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধটি হবে একটি ‘হাইব্রিড স্ট্র্যাটেজিক ওয়ার’, যেখানে সামরিক হামলা, সাইবার আক্রমণ, অর্থনৈতিক অবরোধ, গোয়েন্দা অপারেশন এবং আঞ্চলিক জোট রাজনীতি একসাথে ব্যবহৃত হবে। এর মূল লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক সামরিক সাফল্য নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে পুনর্নির্ধারণ করা।

ইরান-রাশিয়া-চীন অক্ষের বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কৌশল
ইরান, রাশিয়া ও চীন, এই অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত অক্ষ যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-নেতৃত্বাধীন নতুন চাপ বা যুদ্ধ মোকাবেলা করে, তবে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে বহুস্তরবিশিষ্ট। এটি সরাসরি ন্যাটোর মতো কোনো সামরিক জোট নয়; বরং একটি ‘স্বার্থভিত্তিক সমন্বয়’, যেখানে প্রত্যেক পক্ষ নিজ নিজ কৌশলগত সুবিধা রক্ষা করতে চাইবে।

প্রথমত, ইরানের প্রধান কৌশল হবে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধ’ বা অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার। সরাসরি মার্কিন-ইসরাইলি সামরিক শক্তির মুখোমুখি হওয়ার বদলে তেহরান তার প্রতিরোধ অক্ষের প্রক্সি নেটওয়ার্ককে পুরোদমে সক্রিয় করবে। হিজবুল্লাহ, হুথি, ইরাক ও সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়ারা বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে চাপ সৃষ্টি করবে। এতে যুদ্ধ বহু স্থানে ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রতিপক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় দ্রুত আকাশচুম্বী হবে। একই সাথে ইরান সাইবার হামলা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ‘কম খরচে উচ্চ ক্ষতি’ করার কৌশল অবলম্বন করবে।

রাশিয়ার কৌশলগত সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য। রাশিয়া এই সঙ্কটকে পশ্চিমা শক্তিকে অন্য ফ্রন্টে ব্যস্ত রাখার সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মস্কো বুঝেছে, দীর্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাত পশ্চিমা অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও গোয়েন্দা সহায়তা, উন্নত অস্ত্র প্রযুক্তি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে ইরানকে পর্দার আড়াল থেকে শক্তিশালী করবে। একই সাথে তারা আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা’ হিসেবে তুলে ধরবে।

চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চালটিও হবে তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের ভূমিকা হবে আরো কৌশলগত ও অর্থনৈতিক। বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে চায়, কারণ তাদের নিজস্ব অর্থনীতি বিপুল তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তাই চীন সরাসরি সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িত না হয়ে ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা, বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ তৈরি করে দিতে পারে। একই সাথে তারা নিজেদেরকে একটি ‘মধ্যস্থতাকারী শক্তি’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করে বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে।

ডলার-বহির্ভূত অর্থনৈতিক ব্লক তৈরি করা এই অক্ষের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে, যার আওতায় ‘ডলার-বহির্ভূত অর্থনৈতিক ব্লক’ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং ব্রিকস কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তারা এটিকে পশ্চিমা অর্থনৈতিক আধিপত্য বা ডলারের রাজত্ব দুর্বল করার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

বৈশ্বিক অভিঘাত ও ভবিষ্যৎ পরিণতি
এই বহুমুখী সঙ্ঘাতের পরিণতি অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক হতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। হরমুজ প্রণালী বা লোহিত সাগরে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে। এতে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দা ও মূল্যস্ফীতির মারাত্মক চাপ তৈরি হতে পারে।

এর ফলে নতুন শীতল যুদ্ধ শুরু হবে। বিশ্ব রাজনীতি আরো স্পষ্টভাবে দু’টি ব্লকে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এক দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও পশ্চিমা মিত্ররা, অন্য দিকে চীন-রাশিয়া-ইরানকেন্দ্রিক শক্তি। এটি নতুন ধরনের এক ‘শীতল যুদ্ধ’ পরিস্থিতির দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিতে পারে যেখানে বিশ্ব আর এক কেন্দ্রের প্রধান্যে থাকবে না।

যোগাযোগ ও সাইবার নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে, প্রযুক্তি ও সাইবার যুদ্ধের মাত্রা চরম আকার ধারণ করবে। স্যাটেলাইট, জ্বালানি অবকাঠামো, ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগব্যবস্থার ওপর পরিমাপহীন হামলা বাড়লে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।

সবমিলিয়ে, ইরান অক্ষের মোকাবেলার মূল কৌশল হবে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ক্লান্তিকর সঙ্ঘাত তৈরি করার নামান্তর। যেখানে সরাসরি সামরিক বিজয়ের চেয়ে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চরম ব্যয়বহুল ও ক্লান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা হবে। এর ফল হতে পারে একটি দীর্ঘস্থায়ী বহুমেরুকেন্দ্রিক বৈশ্বিক সঙ্ঘাত, যার অভিঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ব ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়বে। ইরানের জয় হবে টিকে থাকার মধ্যে। আর ইসরাইলের জয় হবে ইরানের পতনে। শেষেরটি শুধু তেহরানের পতন ঘটাবে না, সেই সাথে পুরো মুসলিম শক্তিকে নতজানু হতে বাধ্য করবে। তেমন পরিস্থিতি আরব-অনারব কোনো মুসলিম শক্তি মেনে নেবো না। ফলে এমন এক শক্তির মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দুই দেশকেই প্রভাব বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews