জনগণকে স্বস্তি দিতে ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনে এক ধাক্কায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২২ রুপি কমিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের ছুটি শেষে বাড়ি ফেরা বিপুলসংখ্যক যাত্রীদের স্বস্তি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এটি সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর তৃতীয় দফা। সরকার এই মূল্যহ্রাসকে জনসাধারণের জন্য “ঈদের উপহার” হিসেবে অভিহিত করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) থেকে শুক্রবার (২৯ মে) জারি করা এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, জনগণকে স্বস্তি ও অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া তার সরকারের ‘শীর্ষ অগ্রাধিকারের’ অন্যতম।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম ডিভিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শনিবার থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহ এই দাম বহাল থাকবে।
দেশটিতে প্রতি লিটার পেট্রল ৪০৩ দশমিক ৭৮ রুপি থেকে কমে এখন ৩৮১ দশমিক ৭৮ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৪০২ দশমিক ৭৮ রুপি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮০ দশমিক ৭৮ রুপি।
এর পাশাপাশি কেরোসিন তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ৪১ রুপি ৪৪ পয়সা কমিয়েছে পাকিস্তানের তেল ও গ্যাস নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। ফলে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৩১৩ রুপি ৪৪ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২৭২ রুপিতে।
তেল আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় পাকিস্তান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওঠানামা এবং সামুদ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। পাকিস্তানে সাধারণত প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে এই পরিবর্তন আরও ঘন ঘন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে তেল ও তরল গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়, ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি পাকিস্তানের জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
সরকার দাবি করেছে, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও জনগণকে স্বস্তি দিতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে পরিবহন খাত, মোটরসাইকেল চালক ও রিকশাচালকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা ও ভর্তুকি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
এছাড়া সরকার জানিয়েছে, আঞ্চলিক অস্থিরতার মাঝেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে, যেখানে একই সময়ে অন্য কিছু দেশে সংকট দেখা দিয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম