আজকাল ওয়েবসাইট: অফিসের সকলে নানান কাজে ব্যস্ত। কিন্তু যেই দুপুরটা এল অমনি সংস্থার সকলেই নিজের হাতের কাজ ফেলে এক জায়গায় জড়ো হল। মিটিং-এর জন্য নয়। কোনও নতুন ধরনের অ্যাসাইনমেন্টের পরিকল্পনা করার জন্যও নয়। খাওয়ার জন্য! দুপুরের খাবার সকলে একসঙ্গে খাবেন বলে। সকলে মানে, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নিজেও তাঁর কর্মীদের সঙ্গে বসে দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করেন। 

মুম্বইয়ের ‘কেকে ক্রিয়েট’ নামের একটি কন্টেন্ট তৈরি করার সংস্থার মালিক কাভ্যা কর্নাটক। এই সংস্থার নিয়মগুলির মধ্যে একটা নিয়ম হলো, দুপুরের খাবার সকল কর্মচারী এক সঙ্গে বসে খাবে। 

এদিন তিনি নিজের লিঙ্কডইন হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে উনি ওঁর সহকর্মীদের সঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছেন। সকলে গোল হয়ে বসেছেন। মাঝখানে একটা টেবিল রাখা। সেখানে সকলের বাড়ি থেকে রান্না করে আনা খাবার রাখা আছে। সকলে সকলের খাবার ভাগাভাগি করে খাচ্ছেন। 

এই ছবি পোস্ট করে সংস্থার সিইও ক্যাপশানে লিখেছেন, ‘প্রতিদিন আমরা এক ঘন্টা করে পিকনিক করি অফিসে। এবং এই পিকনিক করাটা বাধ্যতামূলক।’ তাঁর কথায়, 'রোজ প্রায় ৪০ জন মানুষ নানান কাজে নিজেদের সময় ও পরিশ্রম ব্যয় করেন। তাঁদের নানা ধরণের কাজ থাকে, রোজ রোজ নানা ধরনের ব্যস্ততায় সকলের দিন কাটে। সেই ব্যস্ততার মধ্যে রোজ দুপুর দু’টো নাগাদ সকলে বিশ্রাম নেন। এক ঘন্টার জন্য তাঁরা নিজেদের মধ্যে কাজের বাইরে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।'

সিইও আরও লেখেন, ‘আমাদের কোম্পানিতে কেই একলা বসে খায় না। কাজের টেবিলে অভিজ্ঞতায় কেউ বড় ছোট হতে পারেন, কিন্তু এই টেবিলটায় সকলে সমান। কেউ উঁচুতে কেউ নিচুতে এই বিভেদ নেই। ধর্মের, লিঙ্গের জাতের বিভেদ নেই।’ তিনি আনন্দের সঙ্গে লেখেন, 'অফিসের ম্যানেজার হয়ত ইন্টার্নের পাতের চাটনি তুলে নেন আর নিজের বাক্সের আলুর পরোটা তুলে দেন অনায়াসে।'

কাভ্যার অফিসে ম্যানেজাররাই সকলকে ডাকেন। দুপুর হলেই তিনি সকলে বলেন, ‘এসো, খেতে বসি।’ কখনও কখনও এই এক ঘন্টা আরও বেড়ে যায়। সকলে নিজের বাড়ির রান্না খাবার ভাগ করে নেয়। অনেক ধরনের গেম খেলে। প্রতিষ্ঠাতার কথায়, ‘কখনও কখনও তো মনেও হয় না অফিসে আছি। মনে হয় পরিবারের মধ্যে বসে খাবার খাচ্ছি।’ 

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পরে অনেকেই নানান মন্তব্য করেছেন। বহু মানুষ এই দৃশ্যকে সুন্দর বলে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকের মতে, ‘এমন কাজ করার পরিবেশ খুবই কম দেখা যায়। প্রায় সব কর্মক্ষেত্রে উঁচু পোস্টের কর্মী নিচু পোস্টের কর্মীদের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এভাবে নিজের অহং বোধকে ভেঙে ফেলতে অফিসের মধ্যে দেখা যায় না।’ 

অনেকের মতে এভাবে মিলেমিশে কর্মক্ষেত্রে থাকলে সব থেকে সুবিধা হয় কাজ করতে। তাঁদের কথায় মানুষের মন ভাল থাকলে কাজ করার শক্তি বাড়ে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews