বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু এখন যে বিষয় আরও বেশি উদ্বেগের, তা হলো, সহিংসতার পর সেটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের গবেষণায় বলা হয়, রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুধু ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না, তারা ঘটনার অর্থও নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। অর্থাৎ কে হামলা করল, কেন করল এবং মানুষ সেই ঘটনাকে কীভাবে দেখবে, সেটিও তারা নির্ধারণ করতে চায়। অনেক সময় এ বয়ান তৈরির লড়াই বাস্তব ঘটনার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ প্রবণতা বহুদিনের। একসময় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রদল বা গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার পর বলতেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভে এমন ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এখানে হামলার ঘটনাকে অস্বীকার করা হতো না; বরং সেটিকে ‘জনরোষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে রাজনৈতিক দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হতো। রাজনীতিবিজ্ঞানের ভাষায় এটিই ন্যারেটিভ জাস্টিফিকেশন; অর্থাৎ নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে সহিংসতাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা।