দীর্ঘ ২১ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা ওয়েস্ট-এন্ড টরন্টোর পরিচিত বার সাউথসাইড জনি’স বার অ্যান্ড গ্রিল শেষ পর্যন্ত তাদের মদের লাইসেন্স হারিয়েছে। একটি তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপক স্থানীয় একটি এনক্যাম্পমেন্ট গ্যাংয়ের কাছ থেকে নিয়মিত চোরাই অ্যালকোহল কিনে তা গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতেন। এই গুরুতর অনিয়মের জেরেই অন্টারিওর নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত অন্টারিও লাইসেন্স আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল অ্যান্ড গেমিং কমিশন অব অন্টারিও (এজিসিও) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যে লাইসেন্স প্রত্যাহারের নোটিশ জারি করেছিল, তা যথাযথ ও আইনসম্মত ছিল। ট্রাইব্যুনালের অ্যাডজুডিকেটর সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখে বারটির আপিল খারিজ করে দেন।

এজিসিওর তদন্তে জানা যায়, বারের মালিক জন থিওডোরাকাকিস এবং ব্যবস্থাপক ইয়াসমিন গোমেজ প্রায় এক বছর ধরে পাশের একটি এনক্যাম্পমেন্টে বসবাসকারী গ্যাং সদস্যদের কাছ থেকে একাধিকবার চোরাই অ্যালকোহল কিনেছেন। পরে সেই মদই বারের বৈধ স্টকের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের বসন্তে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার আগে দীর্ঘ সময় ধরে এই অনিয়ম চলছিল।

- Advertisement -

ঘটনার সূত্রপাত হয় এলসিবিওর অর্গানাইজড রিটেইল ক্রাইম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর নজরদারির মাধ্যমে। ২০২৫ সালের ২১ মে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী লেক শোর বুলভার্ড ওয়েস্টের একটি এলসিবিও স্টোর থেকে ১.৭৫ লিটারের দুটি অ্যাপলেটন এস্টেট রামের বোতল চুরি করেন। পরে তিনি সেই বোতল দুটি আরেক ব্যক্তির হাতে তুলে দেন, যাকে ট্রাইব্যুনালের নথিতে ‘কে.এম.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে আরও দেখা যায়, ওই ব্যক্তি সরাসরি সাউথসাইড জনি’স বার অ্যান্ড গ্রিলের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তদন্তকারীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন, চুরি হওয়া মদের বোতলগুলোই বারটির কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

তদন্ত চলাকালে ব্যবস্থাপক ইয়াসমিন গোমেজ স্বীকার করেন যে, তিনি ওই দুটি বোতলের জন্য মাত্র ৭০ ডলার পরিশোধ করেছিলেন। অথচ এলসিবিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বোতলের দাম ছিল ৭১.৯০ ডলার, অর্থাৎ দুটি বোতলের মোট বাজারমূল্য ছিল ১৪৩.৮০ ডলার। বাজারদামের প্রায় অর্ধেক মূল্যে কেনা হওয়ায় তিনি বোতলগুলো যে চোরাই ছিল, তা অনুমান করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে আসে।

লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিতে মালিক জন থিওডোরাকাকিস স্বীকার করেন যে, তিনি প্রতি সপ্তাহে কয়েকবার চোরাই অ্যালকোহল কিনতেন। তবে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, পাশের এনক্যাম্পমেন্টে থাকা গ্যাং সদস্যরা প্রায়ই বারের কর্মচারী ও গ্রাহকদের হয়রানি করতেন এবং ব্যবসার ক্ষতি করতেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তিনি তাদের কাছ থেকে চোরাই অ্যালকোহল কিনতেন। তার দাবি ছিল, এটি মূলত ব্যবসা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষার একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল।

অ্যাডজুডিকেটর ব্রুস স্ট্যান্টন স্বীকার করেন যে, মালিক হয়তো স্থানীয় গ্যাংয়ের চাপের মুখে ছিলেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সেই পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে চোরাই পণ্য কেনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে উল্লেখ করা হয়, যদি সত্যিই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার উচিত ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া। অপরাধীদের কাছ থেকে নিয়মিত চোরাই পণ্য কিনে তাদের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা কোনোভাবেই বৈধ বা নৈতিক সমাধান হতে পারে না।

এই রায় অন্টারিওর আতিথেয়তা খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা স্থানীয় চাপের অজুহাত দেখিয়ে অবৈধ লেনদেনে জড়ালে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর ব্যবস্থা নেবে এই সিদ্ধান্ত সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, বৈধ উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহ এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত একটি জনপ্রিয় বার শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন মদের লাইসেন্স হারিয়ে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে।

- Advertisement -



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews