বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মিটুলের আবাসিক হোটেল সেঞ্চুরি মোটেলে বিপুল চন্দ্র পাল (৫০) নামে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মরদেহ পাওয়া গেছে। সদর থানা পুলিশ শনিবার বিকালে মহানগরীর চারমাথা এলাকার ওই হোটেলের ৬ষ্ঠতলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় কক্ষে যৌণ উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।
নিশিন্দারা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন ও সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম এসব তথ্য দিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারনা, ওই ব্যক্তি স্ট্রোকে মারা গেছেন। এরপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এলাকাবাসীরা বলছেন, শ্রমিক দল সভাপতির সেঞ্চুরি মোটেলে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যৌন ব্যবসা হয়। একটি কক্ষ দুই ঘণ্টার জন্য ২২০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে। প্রভাবশালী নেতার হোটেল হওয়ায় সেখানে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে না। আর তাদের ধারনা, যৌন সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে সাবেক ওই ইউপি সদস্য খুন হয়েছেন। শ্রমিক দল নেতা মিটুলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মিটুল বেশ কয়েক বছর আগে বগুড়া মহানগরীর চারমাথা এলাকায় সেঞ্চুরি মোটেল নামে আবাসিক হোটেল প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে ওই হোটেলে অবাধ যৌন ব্যবসা হয় বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী নেতার হোটেল হওয়ায় সেখানে প্রশাসনের কোনো নজরদারী ছিল না।
মৃত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের দুই বারের সাবেক সদস্য ও এরুলিয়া পালপাড়ার জীতেন্দ্র নাথ পালের ছেলে। বাড়ি কাছে হওয়ার পরও তিনি মাঝে মাঝে সেঞ্চুরি মোটেলে রাত্রীযাপন করতেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি শুক্রবার রাত ৯টার দিকে হোটেলে এসে দোতলার একটি কক্ষে উঠেন। এরপর রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার লিফটের ৬ষ্ঠতলার ৬১০ নম্বর কক্ষে পার হন।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে হোটেলের কর্মচারী এনামুল হক ও অন্য রুম ছেড়ে দেওয়ার জন্য ডাকতে গেলে বিপুল চন্দ্র পালের কোনো সাড়াশব্দ পাননি।
এ ব্যাপারে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বেলা সোয়া ১টার দিকে নিশিন্দারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিন ও সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সেঞ্চুরি মোটেলে যান। তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিকল্প চাবি দিয়ে রুম খুললে বিছানায় বিপুল চন্দ্র পালের মরদেহ দেখতে পান। রুমে যৌন উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট, কোমল পানীয় ও খাবারের পানির বোতল পাওয়া যায়। সুরতহাল শেষে পুলিশ বিপুল চন্দ্র পালের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মৃতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। রুম থেকে একটি যৌন উত্তেজক সিরাপ, একটি ঘুমের ট্যাবলেট, একটি কোমল পানীয়র বোতল ও একটি পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এসব আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা এর বাহিরে আর কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এলাকাবাসীরা সেঞ্চুরি মোটেলে অবাধ দেহ ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।