এই আত্মঘাতী প্রবণতা রোধ করতে হলে উচ্চকক্ষকে হতে হবে সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক, যেখানে ভোটের সংখ্যানুপাতে সব দলের উপস্থিতি থাকবে। আর সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে এই উচ্চকক্ষের অন্তত সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন বাধ্যতামূলক থাকা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো একটি দল চাইলেই সহজে রাষ্ট্র পরিচালনার ‘খেলার নিয়ম’ বা মৌলিক নীতিগুলো একপক্ষীয়ভাবে বদলে ফেলতে না পারে। (সূত্র: মৌলিক সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট রাখলে জুলাই সনদ হবে মূল্যহীন, ৩ নভেম্বর, ২০২৫)
যেহেতু অধিকাংশ রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির উচ্চকক্ষ এবং সংবিধান সংশোধনে এর ভূমিকার পক্ষে অনড় ছিল, তাই অন্তর্বর্তী সরকার বাধ্য হয়েই বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গণভোটের প্রশ্নের ‘খ’ প্রস্তাবে আনুপাতিক উচ্চকক্ষের বিষয়টি সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি গণতান্ত্রিক রাজনীতির সৌন্দর্য—যখন দলগুলো একমত হতে পারে না, তখন জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আশার কথা ছিল, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, গণভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং কয়েকটি সমাবেশে এর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। এতে মনে হয়েছিল, হয়তো বিএনপি এই ইস্যুতে নমনীয় হচ্ছে এবং গণরায় মেনে নিতে প্রস্তুত।