যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কথিত যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামেনি। ইসরায়েলি বাহিনী এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির প্রথম কয়েক দিন হামলা না চালালেও সময় ও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে থেমে থেমে হামলা অব্যাহত রেখেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। আলজাজিরা এক চীনা কূটনীতিকের বরাতে জানায়, ‘এটি যুদ্ধবিরতি নয়, বরং কম মাত্রার যুদ্ধ।’ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল পাঁচটি সেনাবাহিনীর দল মোতায়েন রেখেছে। তাদের নিয়মিত বোমা হামলায় ধ্বংস হচ্ছে বাড়িঘর, বাড়ছে আতঙ্ক। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সময় গতকাল সকালে দক্ষিণ লেবাননে ১১টি গ্রাম খালি করার নির্দেশ দিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। এর মধ্যে তিনটি গ্রাম প্রথমবারের মতো এমন নির্দেশ পেল। এর মধ্যে কিছু গ্রাম লিতানি নদীর উত্তরেও রয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন নয়। তবে এতে স্পষ্ট হচ্ছে যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরিধি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে লেবাননের সাধারণ মানুষের জন্য নিজ বাড়িতে নিরাপদে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে ক্রমেই চাপ বাড়ছে লেবাননের দুর্বল রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর, বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবাসহ জরুরি সরকারি সেবাগুলোতে।
এদিকে দখলদার ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী বসতি আভিভিমে একাধিক রকেট ছুড়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গতকাল রকেটগুলো নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এর মধ্যে একটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে। আর বাকিগুলো কোথায় আছড়ে পড়েছে সেটি নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।
এ রকেট নিক্ষেপের কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিবৃতিতে বলেছে, ‘হিজবুল্লাহর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতির আরেকটি লঙ্ঘন এটি।’
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান যুদ্ধে যোগ দেয় হিজবুল্লাহ। এরপর ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। কিন্তু দখলদার ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখে। তবে ইরানের চাপের মুখে ১৬ এপ্রিল থেকে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যুদ্ধবিরতি করতে বাধ্য হয় ইসরায়েল। কিন্তু দখলদাররা হামলা বন্ধ রাখেনি। তাদের সেনারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ভাঙতে থাকে এবং হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা চালাতে থাকে। গত কয়েক দিন ধরে তারা ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী বসতি ও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি মাঝে মাঝে রকেটও ছুড়ছে তারা। সূত্র : আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল