বিশ্বের জনবহুল মেগাসিটিগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় আবারও শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২৮৭ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকার এক নম্বরে অবস্থান করছে। 

বায়ুমানের এই স্তরকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণা ও ধোঁয়ার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকা এই ভয়াবহ দূষণের কবলে রয়েছে, যা নগরবাসীর স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, একই সময়ে ২৬৩ স্কোর নিয়ে ভারতের দিল্লি শহর তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে এবং ২১৯ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া ২০৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটি এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতার স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৭। 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মেগাসিটিগুলোতে দূষণের মাত্রা প্রায় একই রকম ভয়াবহ হলেও আজ সকালের সূচকে ঢাকাকে সব শহরের চেয়ে বেশি দূষিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত নির্মাণকাজের ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া এবং চারপাশের ইটভাটার নিঃসরণকে এই দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

বায়ুমান সূচক বা একিউআই অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর থাকলে বাতাসকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’ বলা হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে সাধারণ মানুষের জন্যও ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ঢাকার বর্তমান স্কোর ২০ এক ছাড়িয়ে ২৮৭-তে পৌঁছানোয় চিকিৎসকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূষণের মাত্রা ৩০০ ছাড়িয়ে গেলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা যেকোনো সুস্থ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোনো সমাধান না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে বৃষ্টিপাত না থাকায় এবং ‘টেম্পারেচার ইনভারশন’ নামক আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে দূষিত কণাগুলো ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আটকে থাকে। 

এর ফলে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদরোগের মতো জটিলতা বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে রাস্তাঘাটে নিয়মিত পানি ছিটানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews