নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ভারতজুড়ে চলা বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলেছেন ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। তরুণরা যেন কখনো পরিশ্রম আর মেধার ওপর বিশ্বাস না হারায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এক্স-এ দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে ব্যাটিং গ্রেট তার প্রয়াত বাবা, অধ্যাপক রমেশ টেন্ডুলকারের শেখানো মূল্যবোধের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে, যারা মনে করছে তাদের পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি।

টেন্ডুলকার লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি অনেক তরুণ শিক্ষার্থীর জন্য পরামর্শদাতা এবং গুরু ছিলেন। শুরু থেকেই তিনি আমাকে যে শিক্ষাটা দিয়েছিলেন তা হলো, ব্যর্থতা ঠিক আছে, কিন্তু প্রতারণা ঠিক নয়। কখনো শর্টকাট নেবে না।’

নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে সারা দেশে বিক্ষোভ বেড়ে চলার মধ্যেই টেন্ডুলকারের এই মন্তব্য এলো। শিক্ষার্থীরা এই বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ থেকে জবাবদিহিতা এবং সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে।

তদন্ত বা বিক্ষোভ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে টেন্ডুলকার জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার সততা রক্ষা করা এবং শর্টকাটের চেয়ে সততাকেই মূল্য দেওয়া নিশ্চিত করার যৌথ দায়িত্ব সমাজের।

তিনি লেখেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে সংস্কৃতি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যে সমাজ পরিশ্রমের চেয়ে ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেই সমাজ মেধার বদলে শর্টকাট খুঁজবে।’

ভারতের সাবেক অধিনায়ক টেন্ডুলকার সেসব শিক্ষার্থীর হতাশার কথাও স্বীকার করেন, যারা মনে করছে তাদের নিষ্ঠাকে ন্যায্যভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।

তিনি লেখেন, ‘আজ যখন শিক্ষার্থীরা হতাশ বোধ করছে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, এটা বোঝা যায়। আমাদের সবার একসঙ্গে কাজ করা উচিত, যাতে তাদের আর কখনো এমন অনুভব করতে না হয়।’

তিনি আরও বলেন, এই দায়িত্ব শুধু সরকার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি লেখেন, ‘তরুণ ভারত স্বপ্ন এবং শক্তিতে ভরপুর। তারাই আমাদের সাফল্যের জ্বালানি। বাবা-মা, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়, স্কুল এবং প্রশাসন সহ সমাজের প্রত্যেকের বিশাল দায়িত্ব আছে এবং আলাদা আলাদা ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে আমাদের তরুণরা উৎসাহিত এবং উদ্যমী থাকে।’

ন্যায্যতা ও সততার ভিত্তিতে গড়া একটি সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়ে টেন্ডুলকার শেষে লেখেন, ‘আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, যেখানে কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার দেওয়া হয়, সততাকে উৎসাহিত করা হয় এবং মেধার জয় হয়।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমরা সবাই মিলে এমন সমাধান খুঁজে পাব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করবে এবং তাদের স্বপ্নকে রক্ষা করবে।’

এই বিতর্কের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো সর্বশেষ পরিচিত ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব টেন্ডুলকার। ভারতের সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশ্বাস অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আলোচনা এবং অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়েই সমাধান আসে।

এদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের দৃশ্য দেখে কষ্ট পাওয়ার কথা জানান মোহাম্মদ কাইফ। এক্স-এ কাইফ লেখেন, ‘একজন বাবা হিসেবে শিক্ষার ত্রুটির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগ দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে। দিল্লির রাস্তায় বাচ্চাদের লাঠিপেটা করা বন্ধ হওয়া উচিত। আমি আশা করি খুব শিগগিরই একটা সমাধান আসবে।’

সাবেক অলরাউন্ডার ইরফান পাঠানও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান। তিনি বলেন, বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের ত্যাগ কখনোই একটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ম্লান হয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী ন্যায্য সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে চলা এই বিক্ষোভ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও তীব্র হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews