রাষ্ট্রমালিকানাধীন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে নিয়োগ পেয়েছেন নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান। এর আগে তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)–এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এমডি করার বিষয়ে সরকারের সম্মতির কথা জানিয়েছে। পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এ ব্যাংকের তিনিই প্রথম এমডি।
যোগ দেওয়ার দিন থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন তিনি।
চিঠিতে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হয়েছে।
যোগাযোগ করলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, কিছুদিনের মধ্যে বিষয়টি পর্ষদে উপস্থাপিত হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এ ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহের মতো লাগতে পারে।
জানা গেছে, এর আগে ২০১৮ সালে তিনি ইউসিবিতে ডিএমডি হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২০ সালে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। সেখানে তিনি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ব্যাংকিং ও ট্রানজেকশন ব্যাংকিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ইউসিবিতে যোগদানের আগে তিনি ব্র্যাক ব্যাংকে ডিএমডি ও চিফ রিস্ক অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করপোরেট, রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিংয়ের ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনায় তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়া বৃহৎ ও সমন্বিত প্রকল্প অর্থায়ন, স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স, কালেকশন ও ইমপেয়ার্ড অ্যাসেট ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল রিস্ক, তথ্য নিরাপত্তা এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়েও দক্ষতা রয়েছে তার।
নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান আইবিএ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৯৩ সালে ফাইন্যান্স ও ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি হংকংয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কয়েকটি ‘প্রভাবশালী গোষ্ঠী’ জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেয়। এসব অনিয়মের চাপে কয়েকটি ব্যাংক সংকটে পড়ে। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংক একত্র করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।