এবার কিন্তু তার চিহ্নটি পর্যন্ত দেখা যায়নি। সম্ভাব্য পতনের বিন্দুবিসর্গ বোঝা যায়নি। গত বছর বিধানসভার ১০ কেন্দ্রের উপনির্বাচন হয়। ১০টিই তৃণমূল জেতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধিতা সত্ত্বেও মমতা তাই ভেবেছিলেন, সব বাধা কাটিয়ে উঠতে তাঁকে সাহায্য করবে মুসলমান, নারী মহল ও দরিদ্র জনসমষ্টির বিপুল সমর্থন এবং হিন্দু ভোটারদের একাংশ। এসআইআরের দুর্ভোগ ও হয়রানি উসকে বাঙালি জাত্যভিমান জাগিয়ে কেল্লা ফতের বাজিও তিনি খেলেছিলেন। বাড়তি ভরসা ছিল সাংগঠনিক শক্তি।
এখন বোঝা যাচ্ছে, প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি এসআইআর যে মানুষকে ভয়ডরহীন করে তুলবে, সবাই যে নিজের ভোট নিজেই দিতে পারবে, রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসন যে শাসকের পাশে দাঁড়াবে না, ভোট পরিচালনা ও গণনার সব কাজে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের লাগানো হবে, সেই অনুমান মমতা করতে পারেননি। যখন বুঝলেন, তত দিনে বিজেপি ও কমিশন লড়াইটা তৃণমূল বনাম রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলেছে।
এর মোকাবিলার ক্ষমতা মমতার ছিল না। শেষ চেষ্টা তিনি করেছিলেন এই ভোটকে বাঙালি বনাম বহিরাগতের রূপ দিতে। বাঙালি জাত্যভিমান জাগিয়ে তুলতে। কিন্তু গত পাঁচ বছরের অপশাসনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাঙালি তাতে মজেনি।