মহাকাশ যেন এক বিশাল সমুদ্র। সেই সমুদ্রে ভেসে চলেছে অদ্ভুত এক জেলিফিশ গ্যালাক্সি। এবার সেই গ্যালাক্সির সবচেয়ে দূরের ছবি তুলেছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। এই আবিষ্কার করেছেন কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
গ্যালাক্সিটির নাম কসমস২০২০-৬৩৫৮২৯। এটি ছিল আজ থেকে প্রায় ৮৫০ কোটি বছর আগে। তখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল এখনকার এক-তৃতীয়াংশ। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপ দিয়ে তথ্য যাচাই করা হয়।
জেলিফিশ গ্যালাক্সি এমন এক ধরনের গ্যালাক্সি, যার পেছনে লম্বা লেজের মতো অংশ দেখা যায়। দেখতে অনেকটা জেলিফিশের শুঁড়ের মতো। যখন এসব গ্যালাক্সি খুব দ্রুতগতিতে গ্যালাক্সির বড় দলে (ক্লাস্টার) প্রবেশ করে, তখন চারপাশের গরম ও ঘন গ্যাস প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। এতে গ্যালাক্সির নিজের গ্যাস ছিটকে বেরিয়ে যায় এবং লম্বা লেজ তৈরি হয়।
গবেষকেরা আকাশের একটি বিশেষ অংশ ‘কসমস ফিল্ড’ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এই জায়গায় আমাদের আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সির ধুলো ও তারার বাধা কম। তাই দূরের গ্যালাক্সি পরিষ্কার দেখা যায়। সেখানেই এই অজানা জেলিফিশ গ্যালাক্সির খোঁজ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীরা আগে ভাবতেন, মহাবিশ্বের সেই সময়ে গ্যালাক্সির বড় দল পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই এত তীব্র চাপের ঘটনা কম ছিল। কিন্তু নতুন এই আবিষ্কার সেই ধারণাকে বদলে দিতে পারে।
গ্যালাক্সিটির লেজে উজ্জ্বল নীল অংশ দেখা গেছে। এতে বোঝা যায়, সেখানে নতুন তারার জন্ম হচ্ছে। অর্থাৎ কঠিন পরিবেশেও তারকা তৈরি থেমে থাকেনি।
গবেষকেরা এখন আরও বিস্তারিত জানার জন্য আবার পর্যবেক্ষণের সময় চেয়েছেন। তারা মহাবিশ্বের শুরুর ইতিহাস আরও পরিষ্কারভাবে বুঝতে চান।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল