আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে আবারও আমরা আমাদের জীবনে পবিত্র রোজার মাসের দেখা পেলাম। রমযান কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার নাম নয়; এটি মানুষের অন্তর্জগতের পুনর্জাগরণ, আত্মশুদ্ধি এবং জীবনদর্শনের পুনর্গঠনের এক অনন্য সময়। আল্লাহ তাআলা-এ ঘোষণা করেছেন: “হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো” (সূরা আল-বাকারা ২:১৮৩)। এ আয়াত স্পষ্ট করে দেয়-রমযানের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যমে মানুষকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।
কিন্তু এ পথে অগ্রসর হওয়ার পথে চ্যালেঞ্জও আছে। কেননা, মানুষকে আল্লাহ সহজাতভাবে খুব দুর্বল করেই সৃষ্টি করেছেন। আজ থেকে বহু বছর আগে যখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সে অর্থে যাত্রাই শুরু করেনি, তখনও মানুষ জীবনের মোহে পড়ে যেতো। আর এখন তো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অনন্য এক উৎকর্ষতায় মানুষ অবস্থান করছে। মানুষের জীবন এখন অনেক বেশি সহজ, বিলাসবহুল ও আরামদায়ক। তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই মানুষ তার নিত্যদিনের লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়। প্রতিনিয়ত জীবনের প্রলোভনে আর মোহে আক্রান্ত হয়ে যায়। পার্থিব বিলাসিতা আর শয়তানের ওয়াসওয়াসা মুমিনকে শুধুই বিচ্যুত করে দিতে চায়। এভাবে চলতে চলতে মানুষের মনটাও একটা সময়ে কলুষিত হয়ে যায়। আল্লাহ যে ইবাদতগুলো মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন, সেগুলোর আমল করার ক্ষেত্রেও দুর্বলতা চলে আসে। আর নফল ইবাদতের কথা নাই বা বললাম।
ইবাদত বা আমল না করা কিংবা ইবাদত পালন করার ক্ষেত্রে দুর্বলতাই একমাত্র সংকট নয়। বরং প্রকৃত সমস্যা আরো অনেক বেশি প্রকট। আল্লাহ যে কারণে ইবাদতগুলো সম্পাদন করতে বলেছেন, যেভাবে করতে বলেছেন, একবার অন্তর কলুষিত হয়ে যাওয়ার পর মুমিন আর সে চেতনা নিয়ে ইবাদত করতেও পারে না। ইবাদত করে তার মন যেমন স্বস্তি পায় না ঠিক তেমনি ইবাদতগুলোর যে ইতিবাচক প্রভাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মনে, মননে ও চিন্তাদর্শনে পড়ার কথা-তেমনটাও সে অর্থে দেখা যায় না।
আল্লাহ যেহেতু মানুষকে বানিয়েছেন, তাই মানুষের এসব সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তিনিই সবচেয়ে বেশি ভালো জানেন। মুমিনের ঈমানী চেতনা যেন জোরদার হয়, সে যেন তার দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে, দ্বীনের প্রতি তার দ্বায়বদ্ধতাকে ঝালাই করে নিতে পারে তার জন্য আল্লাহ পাক মানুষের জন্য অনেকগুলো সুযোগ করে দিয়েছেন। নিজের জীবনের সাথে কিছু চিত্র মিলিয়ে দেখলে বিষয়টা ভালোভাবেই অনুধাবন করা যায়। ঘরের সব দেয়ালে কিন্তু চার্জ পয়েন্ট থাকে না। আপনি সে দেয়ালেই মোবাইল চার্জ দিতে পারেন যেখানে চার্জার লাগানোর মতো পিন আছে। আবার যে পয়েন্টে আপনি মোবাইল চার্জ করেন, সেখানে হয়তো ফ্রিজ লাগানো যায় না। কিংবা ধরুন, গাড়ি চলছে। তেল ফুরিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে আপনার যাত্রাপথের সমস্যা নিরসনের একটিই উপায় আর তাহলো গাড়িটিকে নিকটতম পেট্রোল পাম্পে নিয়ে যাওয়া।
আল্লাহ তাআলাও ঠিক একইভাবে মানুষের ঈমানকে সংহত করার জন্য বছরের কিছু মাসকে অন্যদিনের থেকে আলাদা করেছেন। চেতনাগত দুর্বলতাগুলোকে দূর করার উদ্দেশ্যে একে নবায়ন করার মতো সুযোগও তৈরি করে দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে, কিছু স্থানকে অন্য স্থানের চেয়ে বরকতময় ঘোষণা করেছেন। আবার মানুষ হিসেবেও কাউকে অপরের থেকে এগিয়ে রেখেছেন, আবার কাউকে হয়তো একটু অনগ্রসর অবস্থায় রেখেছেন। এটা পুরোপুরি আল্লাহর এখতিয়ার।
রমযান মাসের রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাসম্পন্ন। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হলো রমযান মাসে রোজা পালন করা। আল্লাহ তাআলা শুধু যে উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপরই রমযান পালন করার আদেশ জারি করেছেন তা নয়। পূর্ববর্তী অনেক জাতি ও সম্প্রদায়কেও আল্লাহ রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটিই, যাতে মুমিন বান্দারা আরো বেশি তাকওয়ার গুণে সমৃদ্ধ হতে পারে। রোজাকে নিয়মিতভাবে সকল জাতির ওপর বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড়ো কারণ হলো রোজার বহুমুখী উপকারিতা। রোজা হলো এমন একটি ইবাদত যা মানুষের অন্তরের ওপর ভীষণ প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদরাও জোরেশোরে রোজার উপকারিতার কথা বলছেন। তারা বলছেন, রোজার মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মধ্যে সংযম ও শৃংখলা অনুসরণের প্রশিক্ষণ হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এ মহান মাসের জন্য আমরা কতা প্রস্তুত? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রমযানের আগমনী বার্তা আমাদের কাছে আসে বাজারের ব্যস্ততা, ইফতারের আয়োজন, কিংবা কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। অথচ রমযান প্রকৃতপক্ষে আত্মার প্রস্তুতি দাবি করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক অভিযাত্রা, যার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক প্রস্তুতি। রমযান মাসটি আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা সাধনের সুবর্ণ সুযোগ। আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার একটি অনুকূল সময়। তাই এ সময়টি কোনোভাবেই হেলায় ফেলায় কাটানো উচিত নয়।
সাহাবি আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত-রাসূলুল্লাহ (সা.) একদিন মিম্বরে উঠলেন এবং তিনবার “আমিন” বললেন। সাহাবিগণ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিবরাইল (আ:) এসে দোয়া করেছেন: “ধ্বংস তার জন্য, যে রমযান পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করাতে পারল না।” তখন আমি বললাম: আমিন। এ হাদিসটি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল তার মুসনাদ-এ এবং ইমাম আল-তিরমিজি তার সুনান-এ বর্ণনা করেছেন। হাদিসটি সহিহ বা হাসান হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।
এ হাদিস আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেÑরমযান এমন একটি সুযোগ, যেখানে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দরজা উন্মুক্ত থাকে। শয়তান শৃঙ্খলিত হয়, জান্নাতের দরজা খোলা হয়। তবুও যদি কেউ এই মাসে তওবা, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ক্ষমা অর্জন করতে না পারে, তবে তা তার জন্য চরম দুর্ভাগ্য। অর্থাৎ, রমযান কেবল সময়ের একটি পর্ব নয়; এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের জানালা। সে জানালা খোলা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অমনোযোগী থাকে, তার জন্যই এ কঠোর সতর্কবাণী। পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রমযান মাস আবারও আমাদের মাঝে। রহমতের দিনগুলো একে একে চলে যাচ্ছে। রোজার ফজিলত সম্পর্কেও আমাদের অনেকেরই কমবেশি ধারণা আছে। কিন্তু রোজার হক সঠিকভাবে আদায় করার জন্য ঠিক কোন ধরনের প্রস্তুতি নেয়া দরকার কিংবা আগে থেকে কীভাবে প্রস্তুতি নিলে আমরা উপকার পাবো-সে বিষয়ে আলোচনা করা এখন জরুরি বলে অনুভব করছি।
প্রথমত, রমযানের প্রস্তুতি শুরু হয় অন্তর থেকে। নিয়তই ইবাদতের প্রাণ। যদি হৃদয়ে পরিবর্তনের আকাক্সক্ষা না থাকে, তবে বাহ্যিক ইবাদতও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই রমযানকে কেন্দ্র করে কিছু সময় নিয়ে নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানো জরুরি। গত এক বছরে আমরা কী অর্জন করেছি? কোথায় ব্যর্থ হয়েছি? কোন গুনাহ আমাদের অন্তরকে কঠিন করেছে? এই আত্মসমালোচনাই প্রকৃত প্রস্তুতির সূচনা। আন্তরিক তওবা ছাড়া রমযানের পূর্ণ স্বাদ লাভ করা যায় না। যে হৃদয় অনুতাপে ভিজে না, সে হৃদয় কুরআনের আলো পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না।
রমযান কুরআনের মাস। এ মাসেই কুরআন নাযিল হয়েছেÑমানবজাতির জন্য হেদায়েত, সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দলিল হিসেবে। তাই রমযানের প্রস্তুতির অন্যতম দিক হলো কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন। অনেকেই রমযানে এক বা একাধিক খতমের লক্ষ্য স্থির করেন, কিন্তু তিলাওয়াতের পাশাপাশি অনুধাবন ও উপলব্ধির প্রস্তুতিও প্রয়োজন। কুরআন কেবল পড়ার জন্য নয়; তা জীবনে ধারণ করার জন্য। রমযানের প্রতিটি দিন যদি একটি নির্দিষ্ট সময়ে কুরআন পাঠ ও অর্থ অনুধাবনের অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তবে এক মাস পর তা স্বাভাবিক অনুশীলন হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।
একইভাবে নামাজের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি জরুরি। রমযানে কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ, তারাবিহ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যে ব্যক্তি সারা বছর ফরজ নামাজেই গাফিলতি করে, তার পক্ষে হঠাৎ দীর্ঘ রাত জেগে ইবাদত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রমযানের প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দৃঢ়তা, খুশু-খুযু অর্জনের চেষ্টা এবং ধীরে ধীরে অতিরিক্ত নফল ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইবাদত কখনো আকস্মিক আবেগের বিষয় নয়; এটি ধারাবাহিক সাধনার ফল।
রমযানের প্রস্তুতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চরিত্র পরিশুদ্ধি। রোজা শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকা নয়; এটি জিহ্বা, চোখ, কান ও অন্তরকেও সংযত করার অনুশীলন। গীবত, মিথ্যা, প্রতারণা, অহংকারÑএসব থেকে মুক্ত না হলে রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। তাই রমযানের এ সময়গুলোতে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। কারও প্রতি অবিচার করে থাকলে ক্ষমা চাওয়া, কারও হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়াÑএসবই প্রস্তুতির অংশ। সামাজিক সম্পর্ক পরিশুদ্ধ না হলে আধ্যাত্মিক উন্নতিও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
শারীরিক প্রস্তুতির কথাও অবহেলা করা যায় না। রোজা মানুষের শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, রাত জাগার অভ্যাস বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন নির্ভরতা রমযানে কষ্টের কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজনÑঘুমের সময় সামঞ্জস্য করা, অতিভোজন কমানো, সংযমী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। এতে রোজা কষ্টকর না হয়ে বরং প্রশান্তির অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
রমযান ব্যক্তিগত সাধনার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক পুনর্গঠনেরও সময়। একটি পরিবার যদি সম্মিলিতভাবে রমযানের পরিকল্পনা করেÑযৌথ কুরআন পাঠ, নিয়মিত দোয়া, সন্তানদের নৈতিক শিক্ষার আয়োজনÑতবে ঘরেই একটি নূরানি পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিশুদের কাছে রমযান আনন্দ ও অনুপ্রেরণার মাস হয়ে ওঠে। একইভাবে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধও এই প্রস্তুতির অংশ। যাকাত, ফিতরা ও দান-সদকার হিসাব আগেই নির্ধারণ করলে ইবাদতের প্রশান্তি বৃদ্ধি পায়। রমযান কেবল আত্মকেন্দ্রিক সাধনা নয়; এটি সামাজিক ন্যায় ও সহমর্মিতারও অনুশীলন।
সময় ব্যবস্থাপনা রমযানের সফলতার অন্যতম চাবিকাঠি। এ মাসে সময় দ্রুত অতিক্রান্ত হয়। তাই পূর্বপরিকল্পিত রুটিন তৈরি করা দরকারÑকোন্ সময়ে কুরআন পড়া হবে, কখন বিশ্রাম, কখন পারিবারিক সময়, কখন ব্যক্তিগত ইবাদত। পরিকল্পনা না থাকলে দিনগুলো অনিয়ম ও ব্যস্ততায় হারিয়ে যায়। অথচ রমযান আমাদের শেখায়Ñসময়ের মধ্যেই বরকত নিহিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রযুক্তি ব্যবহারে সংযম। আধুনিক জীবনে মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের সময় ও মনোযোগ গ্রাস করে। রমযান হলো অন্তরের নীরবতার মাস। তাই এই মাসের আগে থেকেই প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করা উচিত। যে সময়টি মোবাইল ফোনে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংয়ে ব্যয় হতো, তা কুরআন, জিকির বা চিন্তায় ব্যয় করলে অন্তরের প্রশান্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
রমযানের প্রস্তুতি মানে কেবল এক মাসের জন্য উদ্দীপনা সৃষ্টি নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা। রমযান যেন আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়Ñএমন লক্ষ্য স্থির করা প্রয়োজন। যদি এ মাস শেষে আমাদের নামাজ, চরিত্র, কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ উন্নত হয়, তাহলেই রমযান সফল। অন্যথায় তা কেবল ক্যালেন্ডারের একটি মাসের পরিবর্তন হয়ে থাকবে যা আমাদের কাম্য হতে পারে না। রমযান আমাদের সামনে প্রতি বছর একটি সুযোগ এনে দেয়-নিজেকে নতুন করে গড়ার, আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার, এবং মানবিকতার উচ্চতর স্তরে উন্নীত হওয়ার। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সে সুযোগকে যথাযথ প্রস্তুতির মাধ্যমে গ্রহণ করব? যদি আজ থেকেই হৃদয়ে পরিবর্তনের অঙ্গীকার করি, তবে রমযান কেবল একটি মাস নয়; বরং এটি হয়ে উঠবে আমাদের জীবনের নবজাগরণের সূচনা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে এমন প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন, যাতে এবারের রমযান আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রমযানে পরিণত হয়। আমিন।