গত ডিসেম্বরের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ডাউনটাউন ব্রুকলিনের এক ডেন্টাল ক্লিনিকে তরুণবয়সী এক নারী দন্তচিকিৎসক হাসিমুখে নম্র ভাষায় কথা বলছিলেন। তাঁর পরনে ছিল একটি জ্যাকেট। তাঁর লম্বা চুলগুলো পেছনে ক্লিপ দিয়ে আটকানো ছিল। রোগীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় এক সহকারী ওই চিকিৎসকের নাম কারিনা বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু ইউনহে কিম নামের ওই রোগী তখনো জানতেন না, তাঁর চিকিৎসা করছেন কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের প্রেমিকা কারিনা শুলিয়াক।
২০১৯ সালে কারাকক্ষে আত্মহত্যা করার আগে জেফরি এপস্টিন সর্বশেষ ফোনটি করেছিলেন ওই শুলিয়াককেই। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা তদন্ত নথি থেকে জানা গেছে, ওই শুলিয়াক উত্তরাধিকার হিসেবে এপস্টিনের সম্পত্তি থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ পেতে পারেন। এই সম্পদের মধ্যে ৩৩ ক্যারেটের একটি হীরার আংটিও আছে।
তবে বিপুল সম্পদের উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও কারিনা শুলিয়াক ব্রুকলিনের ডাউনটাউনের ওই সাধারণ চিকিৎসাকেন্দ্রে খণ্ডকালীন দন্তচিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানকার বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন দাঁতের চিকিৎসক এমনটা নিশ্চিত করেছেন। তবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে শুলিয়াকের ওই প্রচেষ্টা বেশিদিন টেকেনি। কারণ, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টিনসংক্রান্ত তদন্তে সংগৃহীত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি ও ই–মেইল প্রকাশ করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে প্রকাশিত ওই নথিতে শুলিয়াক ও এপস্টিনের মধ্যে আদান–প্রদান হওয়া হাজারো ব্যক্তিগত ই–মেইল এবং তাঁদের একসঙ্গে ও শুলিয়াকের এককভাবে তোলা বেশ কয়েকটি ছবি ছিল। এতে তাঁদের প্রায় আট বছরের সম্পর্কের কথা বেশ জানাজানি হয়ে যায়। শুলিয়াক তখন ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে কাজ করা বন্ধ করে দেন।