অন্তর্বর্তী সরকারের হস্তক্ষেপে বিসিবির ক্ষমতায় এসেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। একইভাবে সরকারি হস্তক্ষেপে বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে তাকে। গত বছরে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে সভাপতির পদে বসেছিলেন বুলবুল। ৬ অক্টোবর পুনরায় নির্বাচিত হন বিতর্কিত এক নির্বাচনে। ছয় মাস দায়িত্ব পালনও করেন বিসিবির। বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অনুমোদিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুই দিনের মাথায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে বাতিল করে দেয়। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। মঙ্গলবার দায়িত্ব নিতে তামিম যখন বিসিবি অফিসে যান, তখন মিরপুর ছেড়ে যান বুলবুল। বুলবুলের কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার ১৮ কারণ দেখিয়েছে তদন্ত কমিটি। বুলবুলের মেয়াদে বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করে সমালোচিত হয়েছে বিশ্বব্যাপী। ভারতের পাশাপাশি আইসিসির সঙ্গে সম্পর্কও শীতল হয়েছে বিশ্বকাপ না খেলায়। এ ছাড়া বিসিবির নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ও আপত্তি তোলে অভিযোগ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বরাবর। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের প্রতিবেদনেই গদিচ্যুত হন বুলবুল। যদিও বুলবুল নিজেকে এখনো বৈধ সভাপতি বলছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘ক্রুটিপূর্ণ ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন বিবৃতিতে। এ ছাড়া তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত বিসিবির অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ অভিহিত করে আইসিসির হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তিনি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব জানিয়েছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচন পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন। অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান সিবগাত উল্লাহ এবং এনএসসির নির্বাহী পরিচালক ছিলেন নির্বাচন কমিশনার। ক্লাবগুলোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৫টি ক্লাব ও তামিম ইকবালের কাউন্সিলরশিপ নিয়ে যে আপত্তি উঠেছিল, তা ২০২৫ সালের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর আধাবিচারিক শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। তামিমের অ্যাডহক কমিটির কোনো বৈধতা নেই বলে দাবি করেন বুলবুল।