২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’ বেশ ‘ট্রিকি’। এই গ্রুপে আছে চারটি দল — মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চেকিয়া। শক্তিসামর্থ্যে যাদের পার্থক্য সামান্যই।

প্রতিটি দলের আলাদা গল্প আছে। মেক্সিকো আবার এই বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। তারা নিজেদের মাঠে খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬ বছর পরে বিশ্বকাপে ফিরছে। ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার হয়তো এটাই সন হিউং মিনের শেষ বিশ্বকাপ। আর চেকিয়া ২০০৬ সালের পরে প্রথমবার বিশ্বকাপে এসেছে।

১১ জুন মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এই ম্যাচ হবে ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের পুনর্মঞ্চায়ন। ২০১০ বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বোধন হয়েছিল এই দুই দলকে দিয়ে। এবার এই ম্যাচ হবে মেক্সিকো সিটির স্মৃতিবিজড়িত স্টেডিয়াম আজটেকায়।

দল প্রিভিউ– মেক্সিকো
কেমন খেলে?
কোচ হাভিয়ের আগিরে তৃতীয়বারের মতো মেক্সিকোর কোচ হয়েছেন। তিনি দলে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছেন রীতিমতো। ২০২৫ সালে কনকাকাফ নেশনস লিগ এবং গোল্ড কাপ জেতার পরে দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে।

গেল মার্চে মেক্সিকো পর্তুগাল আর বেলজিয়ামের মতো দলকে রুখে দিয়েছে। সে দুই ম্যাচের মাহাত্ম্য বেড়ে যায়, যখন হিসেবে রাখা হয় তাদের মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতির বিষয়টি। তাদের ছাড়াও দলটা বেশ ভালো লড়াই করেছে।

আক্রমণের ধরন
মেক্সিকো ৪-৩-৩ ছকে খেলে। এডসন আলভারেজ মাঝমাঠে রক্ষণাত্মক ভূমিকা পালন করেন। তবে তিনি ইনজুরিতে আছেন, তাই খানিকটা শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে রাউল হিমেনেজ আছেন সামনে, উলভারহ্যাম্পটনের সাবেক ও ফুলহ্যামের বর্তমান এই ফরোয়ার্ড সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেন। ২০২৫ নেশনস লিগে তিনি ৪টি গোল করেছেন। ফুলহ্যামেও তার ফর্ম বেশ ভালো।

তার সঙ্গে হুলিয়ান কিনোনেস এবং রোবের্তো আলভারাদো বক্সের একটু বাইরে থেকে সুযোগ তৈরি করেন। তারা সরাসরি আক্রমণে যেতে পছন্দ করেন।

মেক্সিকোর ২০১৮ বিশ্বকাপের নায়ক এরভিং লজানো এবারও আছেন। তিনি ডান দিক থেকে দলের আক্রমণে গতি যোগ করবেন। তার রক্ষণাত্মক দায়িত্ব সামলানোর স্বভাবও প্রতিপক্ষকে অস্বস্তি উপহার দিতে প্রস্তুত।

এদিকে চেনা মাঠও তাদের সাহচর্য্য দেবে। মেক্সিকো সিটি ও গুয়াদালাহারার উচ্চতার সুবিধা ইউরোপীয় ও এশীয় দলগুলোর বিপক্ষে নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগাতে চাইবে মেক্সিকানরা।

রক্ষণভাগ
সেজার মন্তেস এবং ইওহান ভাসকেজ সেন্টারব্যাক হিসেবে থাকবেন। মন্তেস সিএসকেএ মস্কোতে এবং ভাসকেজ জেনোয়াতে খেলেন। দুজনেরই ইউরোপীয় ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। জেসুস গায়ার্দো বাম দিকে খেলেন। তার ১০০-এরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আছে।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এডসন আলভারেজ ফিট থাকলে রক্ষণের সামনে ঢাল হিসেবে কাজ করবেন। তার উপস্থিতি দলকে দ্বিগুণ সুরক্ষা দেবে। 

তবে গোলকিপার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা আছে। বিশ্বকাপের মিথ, কিংবদন্তি বনে যাওয়া গিয়ের্মো ওচোয়া দলে ঢুকে গেছেন ৪০ বছর বয়সে, সে বিষয়টাই বুঝিয়ে দেয় বর্তমান গোলরক্ষকদের ওপর কোচের আস্থা কতটা কম! যদিও রাউল রাঞ্জেল মার্চে পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলেছেন, এবং ভালো পারফর্ম করেছেন। ঘানার বিপক্ষেও তিনিই খেলেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে তিনিই দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে দলের গোলবার সামলাবেন। 

যে প্রশ্নের সমাধান চাই মেক্সিকোর
ফরোয়ার্ড লাইনে ধারাবাহিকতা আনতে হবে। লজানো, কুইনোনেস এবং আলভারাদো সবাই দারুণ খেলছেন দলটির হয়ে, তাদেরকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাননি কোচ আগিরে।

দ্বিতীয়ার্ধে দলের ছন্দ ধরে রাখতে হবে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধ ভালো হলেও দ্বিতীয়ার্ধে দল পিছিয়ে পড়েছিল।

মেক্সিকোর সম্ভাব্য একাদশ
রাঞ্জেল; সানচেজ, মন্তেস, ভাসকেজ, গায়ার্দো; ফিদালগো, লিরা, ভার্গাস; আলভারাদো, হিমেনেজ, ভেগা।

মেক্সিকোর সেট পিস নেবেন কারা
কর্নার কিক: ব্রায়ান গুতিয়েরেজ, আলেক্সিস ভেগা, রোবের্তো আলভারাদো, গিলবার্তো মোরা, এরভিং লজানো
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: রাউল হিমেনেজ
পেনাল্টি: রাউল হিমেনেজ, অরবেলিন পিনেদা

দল প্রিভিউ— দক্ষিণ আফ্রিকা
কেমন খেলে?
কোচ হুগো ব্রুস বলেছেন এবারই কোচ হিসেবে ডাগআউটে তার শেষ উপস্থিতি। ৭৪ বছর বয়সী এই বেলজিয়ান কোচ বাফানা বাফানাদেরকে সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। ২০১৭ সালে তিনি ক্যামেরুনকে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতিয়েছিলেন। ২০২৩ আফকনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গেছেন। সেই তার হাত ধরেই এবার ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবে বাফানা বাফানারা। 

কোচ ব্রুস ৪-৩-২-১ ফর্মেশনে খেলান। রনওয়েন হেইডেন উইলিয়ামস ছন্দে আছেন। তেবোহো মোকোয়েনা মাঝমাঠে মূল ভূমিকা পালন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের ধরন
২০১০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সিফিয়ে শাবালালার গোলটা মনে আছে? দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের ধরন কিন্তু ১৬ বছরেও খুব একটা বদলায়নি। বিদ্যুৎ গতিতে প্রতি আক্রমণে উঠে আসাটাই তাদের আক্রমণের ধরন।

এই আক্রমণের কেন্দ্রে থাকবেন লাইল ফস্টার, তিনি খেলেন টার্গেট স্ট্রাইকার হিসেবে। তার লিংক-আপ প্লে এবং এরিয়াল বল দখল করার ক্ষমতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরেক ফরোয়ার্ড অসউইন অ্যাপোলিসের ৮টি আন্তর্জাতিক গোল আছে। এই স্কোয়াডের ‘আন্ডাররেটেড’ খেলোয়াড় তিনি, তবে সুযোগ পেলে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন তিনি। 

রেলেবোহিলে মোফোকেং মাত্র ২১ বছর বয়সী। সরাসরি খেলা তার বৈশিষ্ট্য। দারুণ প্রেসিং দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারেন।

এই দলের রক্ষণ ও আক্রমণকে এক সুতোয় গাঁথেন তেবোহো মোকোয়েনা। তার লম্বা পাসের ক্ষমতা দলের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, রক্ষণ থেকে আক্রমণে ট্রানজিশনে উঠে আসার সময়ে এসব পাসই বাফানা বাফানাদের রসদ যোগায়।

রক্ষণভাগ
এই ক্ষেত্রে দলের ভিত্তি রনওয়েন উইলিয়ামস। ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক রীতিমতো আফ্রিকান এমি মার্তিনেজ। ২০২৩ আফ্রিকান নেশন্স কাপে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি চারটি পেনাল্টি বাঁচিয়েছেন। তার ৬০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা আছে, যা তাকে বিশ্বমঞ্চে বাড়তি মনোবল যোগাবে।

এদিকে এমবেকেজেলি এমবোকাজি শুধু রক্ষণ নয়, আক্রমণেও অবদান রাখতে পারেন। পানামার বিরুদ্ধে তার লং রেঞ্জ গোলটা প্রমাণ করে তিনি কতটা বিপজ্জনক।

যে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে
লাইল ফস্টারের পাশে নির্ভরযোগ্য একজন গোলস্কোরার খুঁজে বের করতে হবে।

মেক্সিকোর ওয়াইড রানারদের বিরুদ্ধে রক্ষণ সংগঠিত রাখতে হবে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পয়েন্ট নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ওই ম্যাচগুলোই তাদের জন্য বড় সুযোগ।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ
উইলিয়ামস; মুদাউ, ওকন, এমবোকাজি, মোদিবা; এমবাথা, মোকোয়েনা; অ্যাপোলিস, মোফোকেং, মোরেমি; ফস্টার।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেট পিস কারা নেন?
কর্নার কিক: অসউইন অ্যাপোলিস, তেবোহো মোকোয়েনা, অব্রে মোদিবা, সিফো পার্সেভালে এমবুলে, শেপাং মোরেমি, রেলেবোহিলে মোফোকেং
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: অসউইন অ্যাপোলিস, তেবোহো মোকোয়েনা
পেনাল্টি: অসউইন অ্যাপোলিস, লাইল ফস্টার

দল প্রিভিউ– দক্ষিণ কোরিয়া
কেমন খেলছে?
এটা প্রায় নিশ্চিত যে এটাই সন হিউং মিনের শেষ বিশ্বকাপ। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ১৪০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। তিনি লস এঞ্জেলস এফসিতে খেলছেন। টটেনহামে তার ক্যারিয়ার শেষের পরে তিনি আমেরিকায় চলে গেছেন।

কোচ হং মিয়ং বো ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। দলটি এএফসি তৃতীয় রাউন্ডে অপরাজিত থেকে কোয়ালিফাই করেছে।

মার্চে দল দুটো খেলায় হেরেছে। আইভরি কোস্টের কাছে ৪-০ এবং অস্ট্রিয়ার কাছে ১-০ হেরেছে। আইভরি কোস্টের ম্যাচে সন ও কাং ইন লি বেঞ্চে ছিলেন। 

অস্ট্রিয়ার ম্যাচে প্রধান খেলোয়াড়রা ছিলেন কিন্তু রক্ষণের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কাটব্যাক গোল ও লেট ক্রসে সমস্যা আছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের ধরন
দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণ তাদের বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সন হিউং মিন যখন ছন্দে থাকেন, তখন তিনি যেকোনো প্রতিপক্ষকে একাই হারিয়ে দিতে পারেন। ক্লোজড স্পেসে ফিনিশিং এবং বড় মুহূর্তে দলকে টেনে তোলার ক্ষমতা তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এপ্রিলে এমএলএসে একটি ম্যাচে তিনি একাই চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন।

কাং ইন লি দলের সবচেয়ে টেকনিক্যাল খেলোয়াড়। পিএসজিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিয়মিত খেলেন। তবে ইনজুরির কারণে ২০২৫/২৬ মৌসুমে গেমটাইম কম পেয়েছেন।

হোয়াং হি চান বাম দিক থেকে প্রেসিংয়ে নেতৃত্ব দেন, গোলস্কোরিংয়েও বেশ পটু। তার ওয়ার্করেট এবং গোল করার ক্ষমতা দলটার হাতে ভিন্ন ধরনের অস্ত্র তুলে দেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার তাদের সেরা ফুটবলটা দ্রুতলয়ের পাল্টা আক্রমণে দেখায়। ২০১৮ বিশ্বকাপের জার্মানি ম্যাচে দলটা ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঠিক একইভাবে খাবি খাইয়েছিল। মাঝমাঠ বল জিতলে দ্রুত আক্রমণে সন এই জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগ
বায়ার্ম মিউনিখের কিম মিন জায় দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার। তিনি সেট পিসে এবং বল নিয়ে খেলতে দলকে সংগঠিত করেন। এরিয়াল ডুয়েলে তার আধিপত্য দলকে রক্ষণ তো বটেই, আক্রমণেও শক্তি যোগায়।

৩-৪-২-১ ফর্মেশন দলের আক্রমণকে বাড়তি শক্তি দেয়, কিন্তু উইং ব্যাক উপরে থাকলে রক্ষণে শূন্যস্থান তৈরি হয়। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এই সমস্যা স্পষ্ট হয়েছে। মার্সেল সাবিত্জারের করা গোলটা এই দুর্বলতা থেকেই এসেছে।

দক্ষিণ কোরিয়াকে যে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে—
থ্রি-ব্যাক নাকি ফোর-ব্যাক সিস্টেম — এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অস্ট্রিয়ার ম্যাচ দেখিয়েছে থ্রি-ব্যাক নিরাপদ নয়, মেক্সিকোর বিপক্ষে বিষয়টা বিপাকে ফেলতে পারে তাদের।
কাং ইন লি এবং সন হিউং মিনকে একসাথে ছন্দে আনতে হবে। মার্চে তারা একসাথে কম সময় খেলেছেন।
১১ জুন চেকিয়ার বিরুদ্ধে জিততে হবে। এই জয় তাদের গ্রুপে সুবিধা দেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য একাদশ
কিম সিউং গিউ; চো ইউ মিন, কিম মিন জায়, কিম জু সিউং; সিওল ইয়ং উ, কিম জিন গিউ, হোয়াং ইন বম, লি তায় সক; লি কাং ইন, হোয়াং হি চান, সন হিউং মিন।

দক্ষিণ কোরিয়ার সেট পিস কারা নেন
কর্নার কিক: সন হিউং মিন, কাং ইন লি, হোয়াং ইন বম, তায় সক লি, মিন হিওক ইয়াং, জিন গিউ কিম
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: সন হিউং মিন, কাং ইন লি
পেনাল্টি: সন হিউং মিন, হোয়াং হি চান

দল প্রিভিউ– চেকিয়া
কেমন খেলছে?
২০২৬ বিশ্বকাপে আসার পথ চেকিয়ার মতো নাটকীয় ছিল না কোনো দলেরই। তারা কোয়ালিফাইং গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার পেছনে দ্বিতীয় হয়েছিল। তারপরে পাঁচ দিনে দুটো পেনাল্টি শুটআউট জিতে বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে।

আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ২৩ মিনিটে ০-২ পিছিয়ে পড়েছিল। তারপর লাদিস্লাভ ক্রেজচির ৮৬তম মিনিটের হেডারে ২-২ হয়। শুটআউটে ৪-৩ জিতেছে। গোলকিপার মাতেই কোভার দুটো পেনাল্টি বাঁচিয়েছেন।

পাঁচ দিন পরে ডেনমার্কের বিরুদ্ধেও একই ঘটনা। পাভেল সুলক তিন মিনিটে গোল করেছেন। ডেনমার্ক সমতায় ফেরে। ক্রেজচি ১০০তম মিনিটে আবার গোল করেন। ডেনমার্ক ১১১তম মিনিটে সমতায় ফেরে। পেনাল্টি শুটআউটে চেকিয়া আবার জিতেছে এবং বিশ্বকাপের টিকেট পেয়েছে।

নতুন কোচ মিরোস্লাভ কোউবেক গেল ডিসেম্বরে দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধান কোচ ইভান হাসেককে বরখাস্ত করার পরে তিনি এসেছেন। প্লেঅফ শুরুর মাত্র কয়েকদিন আগে এই পরিবর্তন করে দলটি। সে জুয়ায় ভালোভাবেই উতরে গেছে চেকিয়া। 

চেকিয়ার আক্রমণের ধরন
চেকিয়ার আক্রমণ শারীরিক শক্তি, সেট পিসের দক্ষতা। পাত্রিক শিক এই গ্রুপের সন হিউং মিনের পরে সবচেয়ে বিপজ্জনক স্ট্রাইকার। তার ২৫টি আন্তর্জাতিক গোল আছে। শেষ ১১টি ম্যাচে ৭টি গোল করেছেন। শারীরিক শক্তি এবং গোলমুখে শান্ত থাকার স্বভাব তার প্রধান বৈশিষ্ট্য।

থমাস সুচেক দলটির মাঝমাঠের ইঞ্জিন। তার শক্তি, এরিয়াল দক্ষতা এবং সেট পিসে গোল করার ক্ষমতা বিপজ্জনক। পেনাল্টিতে শান্তভাবে গোল করার দক্ষতাও আছে তার।

পাভেল সুলক ডেনমার্কের বিরুদ্ধে মাত্র তিন মিনিটে গোল করেছেন। তার পায়ের কাজ এবং সরাসরি আক্রমণ শিকের বাইরে দলকে আরেকটি বিকল্প দেয়। লাদিস্লাভ ক্রেজচি শুধু ডিফেন্ডার নন, সেট পিসে গোলদাতাও। দুটো প্লেঅফ ম্যাচেই সেট পিস থেকে গোল করেছেন।

চেকিয়া পুরো বাছাইপর্বে সেট পিস থেকে ৮টি গোল করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এই হুমকি প্রতিটি প্রতিপক্ষের জন্য মাথাব্যথার কারণ হবে।

চেকিয়ার রক্ষণভাগ
পিএসভি এইন্দহোভেনের গোলরক্ষক কোভার গোলমুখে দারুণ পারফর্ম করেছেন। দুটো শুটআউটে তার সেভ দলকে বাঁচিয়েছে। গ্রুপ ‘এ’র মধ্যে তিনি সেরা গোলকিপারদের একজন।

রবিন হ্রানাক এবং ক্রেজচি সেন্টারব্যাক পজিশনে দারুণ জুটি। দুজনেই ইউরোপীয় শীর্ষ লিগের ক্লাব হফেনহাইম এবং উলভারহ্যাম্পটনে খেলেন। ভ্লাদিমির কউফালও হফেনহাইমে বুন্দেসলিগায় খেলেন। ডেভিড জুরাসেক বাম দিকে গতি যোগ করেন, তার বক্সে ক্রস ফেলার দক্ষতাও বেশ ভালো।

আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে দুটো করে গোল খেলেও সার্বিক রক্ষণ কাঠামো সংগঠিতই ছিল।

চেকিয়াকে যে প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে—
সেট পিস ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে। দুটো প্লেঅফ ম্যাচেই তারা পিছিয়ে পড়ে ফিরে এসেছে।

শুধু শিকের উপর নির্ভর না করে ওপেন প্লে থেকেও গোলের পথ খুঁজতে হবে।

নতুন কোচ কোউবেক মাত্র দুটো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ কোচ করেছেন। জুনে তৃতীয় ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে। দলের পরিচিত কাঠামো ধরে রাখাই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

চেকিয়ার সম্ভাব্য একাদশ
কোভার; চালুপেক, হ্রানাক, ক্রেজচি; কউফাল, সুচেক, দারিদা, জুরাসেক; প্রোভোড, শিক, সুলক।

চেকিয়ার সেট পিস কারা নেন
কর্নার কিক: ভ্লাদিমির কউফাল, ডেভিড জুরাসেক, লুকাস প্রোভোড, আদাম কারাবেক, ভাসিল কুসেই, ভাতস্লাভ চের্নি
ডিরেক্ট ফ্রি কিক: তোমাস সুচেক
পেনাল্টি: তোমাস সুচেক, তোমাস চোরি, পাত্রিক শিক

গ্রুপ ‘এ’ প্রেডিকশন—
স্বাগতিক মেক্সিকোর গ্রুপ জেতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ফেভারিট। তাদের গ্রুপ জেতার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। চেকিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া কাছাকাছি অবস্থানে আছে। উভয়ের সম্ভাবনা প্রায় ২০ শতাংশ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে কম।

কে পরবর্তী রাউন্ডে যাবে?
মেক্সিকো এই গ্রুপ জিতবে। কারণ কয়েকটি:
নিজেদের মাটিতে খেলার সুবিধা আছে। আজটেকা এবং আকরন স্টেডিয়ামে দর্শক সংখ্যা বিশাল থাকবে। হিমেনেজ সেরা ফর্মে আছেন। আলভারেজ ফিট থাকলে মাঝমাঠ শক্তিশালী। কোচ আগিরে দুই বছর ধরে একটা দারুণ সংগঠিত দল তৈরি করেছেন। উচ্চতার সুবিধা ইউরোপীয় ও এশীয় দলগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করে।
মেক্সিকো ১৯৮৬ সালে নিজেদের মাঠে শেষবার কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েছিল। এবার সেই বাধা পেরোনোর সুযোগ আছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানের লড়াই সবচেয়ে আকর্ষণীয়। চেকিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই যোগ্য দাবিদার।

চেকিয়ার সেট পিসে ভয়ংকর। তাদের রক্ষণভাগও বেশ নির্ভরযোগ্য। চরিত্র ও মানসিক শক্তি প্রমাণিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সন, লি এবং কিম — এই তিনজন একসাথে ছন্দে থাকলে চেকিয়ার চেয়ে ভালো দল। কিন্তু রক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন কাটছেই না।

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা মেক্সিকোর বিরুদ্ধে প্রথম ৩০ মিনিট ভালো লড়াই করতে পারে। তারপরে উচ্চতা, ভিড় ও মেক্সিকোর মান প্রভাব দেখাতে শুরু করবে। তাদের সেরা সম্ভাবনা হলো তিনটি ম্যাচের একটায় এক পয়েন্ট পাওয়া। সম্ভবত দক্ষিণ কোরিয়া বা চেকিয়ার বিরুদ্ধে। ১৬ বছর পরে বিশ্বকাপে ফেরাটাই বাফানা বাফানার জন্য বড় সাফল্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ— ১১ জুন দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেকিয়া ম্যাচটা এই গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলা। এই ম্যাচের বিজয়ী নকআউটের টিকিট কাটার দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকবে। 

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’ সত্যিকার অর্থেই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এমনকি এই গ্রুপকে আন্ডারডগদের গ্রুপ অফ ডেথ বলে দিলেও অমূলক হবে না। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews