অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘মৌলবাদী অর্থনীতি’–বিষয়ক ধারণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির আলোচনায় প্রভাবশালী। তিনি ধর্মীয় মৌলবাদ, উগ্রবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, দেশীয় রাজনীতি ও অর্থনৈতিক শক্তির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে চেয়েছেন। উগ্রবাদ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন বা ধর্মীয় পরিচয়ের অপব্যবহার অবশ্যই গবেষণা ও নীতিনির্ধারণের বৈধ বিষয়। কোনো দায়িত্বশীল গবেষক এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারেন না। কিন্তু তখনই সমস্যা শুরু হয়, যখন ইসলামি ব্যাংক, বিমা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন, গণমাধ্যম, ব্যবসা ও সামাজিক উদ্যোগকে একত্রে ‘মৌলবাদী অর্থনীতি’র বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়। এতে বৈধ ইসলামি অর্থায়ন, ধর্মভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগ, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং জঙ্গিবাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় পার্থক্য অস্পষ্ট হয়ে যায়।
কোনো ব্যাংক ইসলামি অর্থায়নের নীতি অনুসরণ করলেই তা মৌলবাদী প্রতিষ্ঠান হয়ে যায় না। কোনো হাসপাতাল ধর্মপ্রাণ দাতাদের অর্থে গড়ে উঠলেই তা উগ্রবাদী প্রকল্প হয় না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও বা ব্যবসার প্রতিষ্ঠাতা ধর্মীয় অনুশীলনকারী হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জঙ্গি অর্থনীতির অংশ নয়।
একটি কঠোর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রমাণ—মালিকানা নিয়ন্ত্রণ, অডিটকৃত অর্থপ্রবাহ, বেআইনি রাজনৈতিক অর্থায়ন, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থপ্রবাহ বা নিয়ন্ত্রক লঙ্ঘনের নির্দিষ্ট তথ্য। এসব ছাড়া ‘মৌলবাদী অর্থনীতি’ বিশ্লেষণী ধারণার চেয়ে রাজনৈতিক তকমায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।