গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী বেলনাথপুর এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক ২ নম্বর আসামি মো. ইলিয়াসকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে র্যাব। গ্রেফতারকৃত ইলিয়াস ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা এলাকার মৃত আরশাদ আলীর ছেলে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার মিরপুর-১২ (কালসী) এলাকার কালশী বাসস্থানে ফেরার পথে বাদীর ছোট ছেলে মো. আব্দুর রশিদ রাজমিস্ত্রির কাজ শেষে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির মারধরের শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে হুমকি দিয়ে বলে যে, ইতিপূর্বে তার বাবা ইলিয়াসের ছেলে দেলোয়ারকে মেরে ফেলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
ঢাকার এই ঘটনার বিচার চাইতে বাদীর বড় ছেলে মো. আশিক আলী ২ নম্বর আসামি ইলিয়াসের কাছে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১৯ জুন সকাল আনুমানিক দশটার দিকে দেশীয় অস্ত্র, ধারালো ছোরা, রড, বাঁশের লাঠি ও হাসুয়াসহ দলবদ্ধ হয়ে আসামিরা বাদীর স্বামী মো. আসাদুল হক ও ভাসুর মো. আশরাফুল হকের বাড়িতে হামলা চালায়। আসামিরা বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করে এবং ১ থেকে ১০ নম্বর আসামিরা শয়নকক্ষের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৬০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল চুরি করে। একপর্যায়ে আসামিরা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া বাদীর ভাসুর নজরুল, ফুজুল, ননদ খাদিজা এবং ভাগিনা তালেবের বাড়িঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দুটি বাড়ির ৯টি ঘর, সমস্ত আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, যাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বাদীর স্বামী, ভাসুর ও ছেলেরা এই কর্মকা-ে বাধা দিলে আসামিরা তাদের তাড়িয়ে বাড়ির পেছনের জমিতে নিয়ে বেদম মারধর শুরু করে। ২ নম্বর আসামি মো. ইলিয়াসের হুকুমে ১ নম্বর আসামি মো. রানা তার হাতে থাকা ধারালো হাসুয়া দিয়ে বাদীর স্বামীর মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন। ২০ নম্বর আসামির আঘাতে মুখের বিভিন্ন স্থানে এবং ২৯ নম্বর আসামির হাসুয়ার কোপে ছেলে আশিক গুরুতর জখম হন। এ সময় ২১ নম্বর আসামির আঘাতে আশরাফুল, ১০ নম্বর আসামির ছোরায় ফুজুল, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর আসামির রড ও লাঠির আঘাতে নজরুল ১৯ ও ৩৬ নম্বর আসামির লাঠির আঘাতে ননদের ছেলে আবু তালেব এবং ৬ ও ৯ নম্বর আসামির আঘাতে ইমরান আলী গুরুতর আহত হন। এছাড়া ২ নম্বর আসামির আত্মীয়রা বাদীর স্বামীর বুকের ওপর বসে ইট দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন।
স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা জখম ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাদীর স্বামীর সাড়া না পেয়ে তাকে পুনরায় ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিরিয়ে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৯ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যান্য আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত আসাদুল হকের স্ত্রী মোসা. আজিনুর বেগম (৪৫) বাদী হয়ে ৪৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
জধলংযধযর ইঁৎবধঁ হবংি (১) ১৪.০৮.২০২৬