উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবার অঘটনের শিকার হয়েছে ইন্টার মিলান। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্লে অফ থেকেই বিদায় নিয়েছে গত আসরের রানার্স আপরা। নরওয়ের ক্লাব বোদো গ্লিমটের কাছে ফিরতি লেগের ম্যাচেও হেরে ইতালিয়ান জায়ান্টরা। ইন্টার মিলান বিদায় নিলেও শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার লেভারকুজেন ও নিউক্যাসল।
ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার প্লে অফ থেকে ইন্টার মিলানকে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ের ক্লাবটি। গত আসরের রানার্স আপ ও ইউরোপের পরাশক্তি ইন্টারকে পরিষ্কার ব্যবধানেই পরাভূত করেছে বোদা/গ্লিমট। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে জিতেছে তারা। প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জিতে অনেকটা এগিয়ে ছিল তারা। দ্বিতীয় লেগে মঙ্গলবার ইন্টারের মাঠে জয় পায় তারা ২-১ গোলে। প্রাথমিক পর্বে টটেনহ্যাম হটস্পার ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে ড্র করে তারা। জুভেন্টাসের সঙ্গে হেরে যায় লড়াই করে। নরওয়ের ক্লাবের জন্য এটুকুই ছিল অনেক বড় প্রাপ্তি। ছয় ম্যাচ শেষে তিন ড্রয়ে পয়েন্ট ছিল তাদের তিন। তবে আসল চমকের তো বাকিই ছিল।
শেষ দুই ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় তারা। তাদের সেই রূপকথার ছুটে চলা অব্যাহত থাকল প্লে-অফেও। দ্বিতীয় লেগে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৮ মিনিটে এগিয়ে যায় বোদা গ্লিম্ট। ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় তারা। দলের হয়ে গোল করেন মিডফিল্ডার হাকোন ইভান। ৭৬ মিনিটে ইন্টার একটি গোল শোধ করলেও আর কিছু করতে পারেনি। ম্যাচ শেষে বোদো গ্লিমট কোচ শেতিল নুতসেন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘ছোট্ট একটি শহরের ক্লাব কী করে ফেলল, বিশ্বাস করতে পারেন! অবিশ্বাস্য অর্জন। কী দারুণ এক ভ্রমণ! এটির পেছনে অনেকেই আছে, অনেকেই এটির অংশ। আমাদের এই প্রকল্পে শক্ত বিশ্বাস রেখে পথচলার সঙ্গী হয়েছেন অনেক অনেক লোক। সবার জন্যই দিনটি অসাধারণ।’
এদিকে, আলেকজান্ডার সরলথের হ্যাটট্রিকে বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে পৌছে গেলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। মঙ্গলবার প্লে-অফের ফিরতি লেগের ম্যাচে বেলজিয়ামের দল ক্লাব ব্রুজকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে দিয়েগো সিমেওনির দল। দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরের ধাপে উঠল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। ক্লাব ব্রুজের মাঠে প্রথম লেগের ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল। ঘরের মাঠে সরলথের দুর্দান্ত গোলে ম্যাচের শুরুটা দারুণ হয় অ্যাটলেটিকোর। ২৩ মিনিটে গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের লম্বা শট ধরে, প্রতিপক্ষের একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে ডি-বক্সে ঢুকে, আচমকা শটে তার দুই পায়ের ফাঁক দিয়েই বল লক্ষ্যে পাঠান নরওয়ের ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে সমানতালে লড়াই করা ক্লাব ব্রুজ ১৩ মিনিট পর গোলটি শোধ করে দেয়। কাছ থেকে হেডে গোলটি করেন ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার ওর্দোনেস গুইরেরো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। প্রতিপক্ষ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড জনি কার্দোসো। এরপর ৭৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে আসা বল ছয় গজ বক্সের বাইরে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে ব্যবধান বাড়ান সরলথ। আর ৮৭ মিনিটে কাছ থেকে ভলিতে হ্যাটট্রিক পূরণের পাশাপাশি শেষ ষোলোর টিকেটও নিশ্চিত করেন ৩০ বছর বয়সী নরওয়ের ফরোয়ার্ড। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার গোল হলো পাঁচটি, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫টি। এর ১০টিই করলেন এই বছরে। আরেক ম্যাচে আজারবাইজানের ক্লাব কারাবাগকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৯-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলো ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল।