ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেও শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’-ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণের স্বার্থে সংগঠনটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তাদের এ অবস্থানের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে স্বাক্ষর করেন মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমি। বক্তব্যে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম ও জুলাই গণ অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কিছু ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। এনপিএ মনে করে, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুতর ও বহুমাত্রিক সিদ্ধান্তগুলোকে আলাদাভাবে জনগণের সামনে না এনে একটিমাত্র ‘হ্যাঁ/না’ প্রশ্নে প্যাকেজ আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি জনগণকে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে এবং অনেকটা ‘ব্ল্যাংক চেক’ নেওয়ার শামিল। এনপিএ আরও অভিযোগ করে, নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরার পরিবর্তে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে ‘হ্যাঁ’-ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার সক্রিয় অবস্থান এবং একপক্ষীয় প্রচার ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) লঙ্ঘন। গণভোটের ব্যালটে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে জনগণ কাদের উচ্চকক্ষে পাঠাচ্ছে, তা না জেনেই ভোট দিতে বাধ্য হবে, যা গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার পরিপন্থি। এ ছাড়া যে আসনে কোনো দল প্রার্থী দেয়নি, সেখানকার ভোটাররা উচ্চকক্ষে ওই দলের পক্ষে ভোট দিতে পারবেন না; যা সমান ভোটাধিকারের লঙ্ঘন। এনপিএর দাবি, ৩৩টি দল ও জোটের সংস্কার প্রস্তাবের ওপর দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত উপেক্ষা করে সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কেন হ্যাঁ-ভোটের পক্ষে এনপিএ : প্রক্রিয়াগত সমালোচনা থাকলেও এনপিএ মনে করে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো পরিবর্তন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার মতো ইতিবাচক দিক রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্যে বলা হয়, ‘আমরা জানি, নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং সরকারের জনবিচ্ছিন্ন ভূমিকার কারণে হ্যাঁ-ভোট জয়যুক্ত হলেও রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তীতে সংস্কার প্রস্তাবসমূহ অগ্রাহ্য করতে পারে। তবে না-ভোট জয়যুক্ত হলে সংস্কার প্রশ্নটিকেই ক্ষমতাসীনরা কার্যত বাতিল করে দেবে। এ আশঙ্কাতেই আমরা শেষ বিচারে হ্যাঁ-ভোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছি।’ সংগঠনটি দাবি জানায়, এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলেও পরবর্তী নির্বাচন থেকে যেন উচ্চকক্ষের জন্য পৃথক ব্যালট এবং নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হয়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews