রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্পর্কে বাইরে যতটা নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত, বাস্তবে পরিস্থিতি ততটা খারাপ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের সম্মানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সকালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। হাসপাতালটি প্রায় ১২০ বছরের পুরোনো উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকটি অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ঘুরে দেখেছেন। অবকাঠামো পুরোনো হলেও ভেতরের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তেলাপোকার সংখ্যা কম, ছারপোকা নেই এবং রোগীদের কাছ থেকে খাবার সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন বলে জানান। তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও লন্ড্রি সেবাসহ নানা ক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।
একটি ওটির উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বেসরকারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ওটি নির্মাণ করে দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি। তিনি দেশের ব্যবসায়ী মহলকে হাসপাতালের ওটি উন্নয়নে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কাজকর্মে কোনো চাপ অনুভব করেননি। চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়ন, চিকিৎসাসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চিকিৎসক নিয়োগ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির সদস্য মাজহারুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালামসহ অন্যরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার অতিরিক্ত রোগী ঢাকা মেডিকেলে সেবা নিতে আসেন। অনেক সময় এক বেডে দুই থেকে তিনজন রোগী রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিয়োলজিস্ট ও সহায়ক কর্মীর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও নার্সরা দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
ওটি পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, কাঠামোগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেও অধিকাংশ ওটির আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা প্রয়োজন।