ছবির উৎস, TV Screen Grab
ছবির ক্যাপশান,
নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে নতুন মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন
২ ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: 3 মিনিট
বারোই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যারিষ্ঠতা পেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা বসলো বিএনপি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ৪৯ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন।
এর মধ্যে ২৫ জনকে পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন, সেটা এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বাইরে এবারের মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্রেট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
তাদের মধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের নামও রয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হতে দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে মঙ্গলবার বঙ্গভবনের বাইরে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
এদিন বিকেলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণপ্লাজায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন।
দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে প্রথমে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদেরকেও তাদের দায়িত্ব ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে দু'টি করে শপথ পড়ানো হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে বিএনপি'র নবনির্বাচিত ২০৯ জন জনপ্রতিনিধি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে আইনি জটিলতা থাকায় তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি।
শপথ গ্রহণ শেষে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বৈঠকে বসেন বিএনপির সংসদীয় দলের সদস্যরা। সেখানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

ছবির উৎস, BNP
ছবির ক্যাপশান,
সকালে শপথের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক হয়
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিতে এখন পর্যন্ত যারা ডাক পেয়েছেন, তাদের মধ্যে নাম রয়েছে: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
আরও রয়েছেন: মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরো ডাক পেয়েছেন: ইশরাক হোসেন, এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল। তারা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।

ছবির উৎস, Chief Adviser’s Press Wing
ছবির ক্যাপশান,
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হচ্ছে
এছাড়া বিএনপি জোটে অংশ নিয়ে নির্বাচিত গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েদ সাকি, (বিএনপি), গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ ডাক পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এর বাইরে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হচ্ছে।
খলিলুর রহমানের ঘনিষ্ট একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
মি. রহমান ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করা হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।