বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর অনলাইন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। অভিনেত্রীর করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট থাকা ৫৫২টি লিংক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জাহ্নবী তার ব্যক্তিত্ব ও পরিচয়-সংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলায় প্রায় ৬ হাজার ৮৮৪টি ইউআরএল নিয়ে আপত্তি তোলা হয়। এসব লিংকের মধ্যে অশ্লীল কনটেন্ট, জাহ্নবীর পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিক ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ও ডিপফেকের অভিযোগ ছিল।
মামলার প্রাথমিক শুনানিতে কিছু লিংক পরীক্ষা করে আদালত দেখতে পায়, ৫৫২টিতে অত্যন্ত অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট রয়েছে। এরপর সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে জাহ্নবীর আবেদনে থাকা সব ৬ হাজার ৮৮৪টি লিংক অপসারণের দাবি আদালত গ্রহণ করেনি। বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামবানির নেতৃত্বাধীন আদালত জানিয়েছে, কোনও তারকার নাম বা ছবি ব্যবহার করে ফ্যান পেজ পরিচালনা করলেই সেটিকে বেআইনি বলা যায় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফ্যান পেজে সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর ছবি, সিনেমা সম্পর্কে তথ্য, প্রশংসা কিংবা সমালোচনা থাকতে পারে। ফলে শুধু জাহ্নবীর নাম বা ছবি ব্যবহারের কারণেই সব ফ্যান পেজ বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।
তবে কোনও পেজে অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশ করা হলে কিংবা জাহ্নবীর পরিচয় ব্যবহার করে বেআইনিভাবে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।
মামলায় এআই-নির্মিত জাহ্নবীর ভুয়া ছবি, ডিপফেক, পরিচয় নকল করে পরিচালিত অ্যাকাউন্ট এবং অশ্লীল কনটেন্টের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। আদালত এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডকে সাধারণ ফ্যান কনটেন্টের সঙ্গে এক করে না দেখে পৃথকভাবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।