অবশেষে ফিরলো স্বস্তি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর উদযাপনের উপলক্ষ পেল বাংলাদেশ। ভেঙেছে গলার কাঁটা হয়ে উঠা মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগার মধ্যকার জুটি।
জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম। তার শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেছেন সালমান আগা। ১৩৪ রানের জুটি ভেঙে সালমান ফিরেছেন বোল্ড হয়ে, ১১৬ বলে ৭১ রান নিয়ে।
অবশ্য পাকিস্তানের সংগ্রহ পৌঁছে গেছে ৩০০ রানে। ৮৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তাদের রান ৩১২। মোহাম্মদ রিজওয়ান মাঠে আছেন ৭১ রান নিয়ে। সাথে আছেন সাজিদ খানে।
পাকিস্তান দল ৫ উইকেট হারায় অবশ্য ১৬২ রানেই। ৩০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। সেখান থেকেই দলকে টানেন রিজওয়ান ও সালমান। ভয়ের কারণ হয়ে উঠছিলেন দু’জনে।
সেই জুটি ভেঙে তাইজুল স্বস্তি ফেরান বাংলাদেশ শিবিরে। পরে অবশ্য আরো একটা উইকেট নেন তাইজুল, এবার তার শিকার হাসান আলী (০)।
রান তাড়া করতে নেমে ১০.২ ওভারে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬) মেহেদী মিরাজের ক্যাচ বানান নাহিদ রানা। এরপরের উইকেটটা অবশ্য মিরাজই নিয়েছেন।
মিরাজের শিকার আজান আওয়াইস। ২১ রান নিয়ে এলবিডব্লিউ হন আজান। ৪১ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। এরপরই জুটি গড়েন শান মাসুদ ও বাবর আজম। তাদের ব্যাটে স্বপ্ন দেখতে থাকে সফরকারীরা।
তাদের ব্যাটে পাল্টা আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। রান তুলে ওয়ানডে গতিতে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে পাকিস্তানের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ২ উইকেটে ১০১ রান। জুটিতে আসে ৬১ বলে ৬০।
জুটি ভাঙে ৩৫তম ওভারে, ১১৫ বলে ৯২ রান যোগ করে। জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। তার বল বাবরের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে লিটনের গ্লাভসে। ৫২ বলে ৪৭ রানে আউট হন তিনি।
পাঁচে নেমে থিতু হতে পারেননি সৌদ শাকিল (২১ বলে ৬)। নাহিদ রানার অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ দেন তিনি। ১৫৪ রানে ৪ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
আর ৮ রান যোগ হতেই ফের আঘাত আনেন তাইজুল। এবার তার শিকার পাকিস্তান অধিনায়ক। ভয়ের কারণ হয়ে ওঠা শান মাসুদ আউট হন ১১৬ বলে ৭১করে। তাতে বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান।
উল্লেখ্য, সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ২৭৮ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকেরা।
লিড নিয়ে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলে বাংলাদেশ। তাতে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।
সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আজ চলছে চতুর্থ দিনের খেলা।