পাবনার জেলার প্রাচীন জনপদের মধ্যে একটি উপজেলা চাটমোহর। শুধু তাই নয়, সম্প্রীতির উপজেলাও বলা হয়ে থকে এই জনপদকে। ইতিহাস ও ঐতিহ্যবাহী এই উপজেলায় রয়েছে বহু প্রাচীন নিদর্শন। রয়েছে নানা কৃষ্টি ও সভ্যতা। হাজার বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী চড়কপূজা এরমধ্যে অন্যতম। পৌর শহর সংলগ্ন বোঁথড় গ্রামে বড়াল নদের পাড়ে চৈত্র সংক্রান্তিতে শুরু হয় চড়ক পূজা। শুধু পূজাই নয়, এর পাশাপাশি বসে বিশাল মেলা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই মেলায় মানুষের ঢল নামে। হাজার বছরের প্রাচীন এই চড়ক পূজায় ভারত ও নেপালসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আসেন পূজা ও মেলা দেখতে। গতকাল শুরু হওয়া ৩ দিনব্যাপী পূজা ও মেলা আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত চলবে।

গত রোববার মন্দিরের পাশের পুকুর থেকে থেকে তেলা হয়েছে ১৩ হাত দৈর্ঘ্যর চড়ক গাছ (শাল গাছ)। এর আগে পাটে ধুপ দেয়ার মধ্যে দিয়ে উপমহাদেশের মধ্যে বিখ্যাত এই চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এরপর মন্দিরে মহাদেবের (শিব) মূর্তি স্থাপনের মধ্যে দিয়ে তিনদিনব্যাপী এই পূজা শুরু হয়েছে। এদিকে পূজা ও মেলা উপলক্ষে এখন প্রতিটি বাড়িতেই এখন অতিথিদের আনাগোনা।

জানা গেছে, একটি চড়ক গাছকে কেন্দ্র করে চৈত্রের শেষ সপ্তাহে পূজা শুরু হয়। যা মন্দিরে অদূরে একটি পুকুরে সারাবছর ডুবন্ত অবস্থায় থাকে। একসময় পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে চলতো মেলা। এমন একসময় ছিল, যখন মেলার দেড়-দুই মাস আগেই বোঁথড় গ্রামে পড়ে যেত সাজ সাজ রব। দূর-দূরান্ত থেকে দোকানিরা এসে তাদের পসরা সাজিয়ে বসতো। তবে মেলার সেই জৌলুস আগের মতো আর নেই। নেই জাঁকজমকতা। তবে, আছে চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর, বিগ্রহ মন্দির।

পূজা দিতে আসা বিউটি রানী কুন্ডু ও কৃষ্ণা চক্রবর্তী নামের দুই নারী বলেন, ‘তারা বিশ্বাস করেন, বাবা মহাদেবের পূজা দিলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। তাই তারা প্রতিবছরের মতো এবারেও উপোস রেখে পূজা দিতে এসেছেন।’ সুরভী দত্ত নামের আরেক নারী বলেন, ‘সবার মনোবাসনা পূরণ করেন বাবা মহাদেব।’ বিয়ের পর থেকেই তিনি বোঁথড় চড়ক মন্দিরে পূজা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

চাটমোহর পৌর শহরের বাসিন্দা রনি রায় জানান, এক সময় দেশ-বিদেশের অনেক ভক্ত এই মেলায় আসতেন। কিন্তু এখন আর আগের মতো জৌলুস নেই মেলার। তবে পূজার সময় এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজনরা আসেন। মন্দিরে পূজা দেন। মনের বাসনা পুণ্যার্থে অনেক ভক্ত মানত করে থাকেন। কেউ পাঁঠাবলি দেন, কবুতর উৎসর্গ করেন, আবার কেউ বা পূজার অর্ঘ্য সাজানো ভরণ চালুন দেন।

বোঁথড় মহাদেব মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর সাহা জানান, হাজার বছর ধরে চলে আসছে এতিহ্যবাহী চড়ক পূজা। দেশ-বিদেশের অনেক পূণ্যার্থী চড়ক পূজায় অংশ নেন। বরাবরের মতো এবারও তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews