মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বড় ধাক্কা খেল জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন। উৎক্ষেপণের আগেই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে কোম্পানিটির উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘নিউ গ্লেন’ রকেট, যা ভবিষ্যৎ চন্দ্র মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। পরে তা মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে পরিণত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সময়  বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে বিশাল রকেটটি আগুনের গোলায় রূপ নেয় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া।

রকেটটি ছিল চতুর্থ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে। এতে অ্যামাজনের ৪৮টি ‘লো আর্থ অরবিট (লিও)’ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল, যা ইলন মাস্কের স্টারলিংক নেটওয়ার্কের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সময় স্যাটেলাইটগুলো রকেটে সংযুক্ত না থাকায় বড় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জে আটকে থাকা ‘নিউ গ্লেন’ প্রকল্পের জন্য এই দুর্ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির আওতায় চাঁদে সরঞ্জাম পাঠানো এবং ভবিষ্যৎ মিশনে এই রকেট ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল, যা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ এর মাত্র দুই দিন আগে নাসা ব্লু অরিজিনকে চাঁদে রোভার অবতরণে সহায়তার জন্য প্রায় ১৮৮ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি দেয়। একই সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেসএক্স তাদের ‘স্টারশিপ’ রকেটের সফল পরীক্ষার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এগিয়ে থাকার প্রমাণ দিয়েছে।

ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, ‘হট-ফায়ার’ পরীক্ষার সময় একটি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। এই পরীক্ষায় রকেটকে স্থির রেখে ইঞ্জিন চালু করে কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। দুর্ঘটনার পর জেফ বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এটি অত্যন্ত কঠিন একটি দিন ছিল, তবে প্রয়োজনীয় সবকিছু পুনর্গঠন করে আবারও তারা উৎক্ষেপণে ফিরবেন।

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, এই ঘটনার তদন্তে তারা ব্লু অরিজিনকে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ভারী রকেট প্রযুক্তি উন্নয়ন অত্যন্ত জটিল এবং এমন ব্যর্থতা মহাকাশ গবেষণার অংশ।

উল্লেখ্য, মহাকাশ প্রতিযোগিতায় ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও বেজোসের ব্লু অরিজিন চাঁদে মানুষ পাঠানোর দৌড়ে রয়েছে। ২০৩০ সালের আগে চীনের সম্ভাব্য চন্দ্রাভিযানের আগেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায় তারা।

তবে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা শুধু ব্লু অরিজিনের নয়। স্পেসএক্সও অতীতে একাধিকবার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি তাদের ‘স্টারশিপ’ রকেট আংশিক সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করলেও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি তাদের নজরে রয়েছে, তবে এর ফলে আকাশপথে বিমান চলাচলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

তথ্য সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান।

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews