রংপুর নগরী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদ্যপুস্করনী ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম পালিচড়া। সাধারণ একটি গ্রাম হলেও এখন এর পরিচিতি ভিন্ন। এক সময় যেখানে ছেলেদের খেলাধুলাই ছিল প্রধান আকর্ষণ, সেই গ্রামেই আজ মেয়েরা ফুটবলে সাফল্যের আলো ছড়াচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব দেখিয়ে এই গ্রামের মেয়েরা হয়ে উঠেছে দেশের গর্ব।

এক সময় জাতীয় নারী ফুটবল দলে পালিচড়া গ্রামেরই ১১ জন খেলোয়াড় ছিলেন। বর্তমানে জাতীয় দলে খেলছেন দুজন একজনের নাম সুরথানা ও অন্যজন ফাতেমা আক্তার জয়নব। তাদের সাফল্য নতুন প্রজন্মের মেয়েদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে।

এই গ্রামের অনেক খেলোয়াড় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বর্তমানে পালিচড়া স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন নারী ফুটবলার নিয়মিত অনুশীলন করছেন। তাদের অনেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এই গ্রামের মেয়েরা। ওই প্রতিযোগিতায় গোল্ডেন বুটসহ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন শামীমা আক্তার নাসরিন ও ফাতেমা আক্তার জয়নব। রংপুরের সেই দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ছিলেন পালিচড়া গ্রামের। তিন বছর আগেও এই গ্রামে নারী ফুটবলারের সংখ্যা ছিল ২৭ জন।

এই গ্রামেরই সিরাত জাহান ও ইশরাত জাহান বর্তমানে জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে খেলছেন। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের হয়ে এখানকার ১১ জন ফুটবলার হংকং, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে খেলেছেন। তারা হলেন রুনা, রুমি, সুলতানা, স্বপ্না, রুনা আক্তার, মৌসুমী (ক্যাপ্টেন), বৃষ্টি, লাবণী, আশা, জয়নব ও নাসরিন।

২০২০ সালে জাতীয় দলের হয়ে পালিচড়া গ্রামের রেখা, রুমি, রুনা, ময়ূরী, শাম্মী ও শাপলাসহ কয়েকজন খেলোয়াড় ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

মেয়েদের খেলাধুলায় উৎসাহ দিতে গ্রামে গড়ে উঠেছে সদ্যপুষ্করনী উন্নয়ন সংস্থা এবং সদ্যপুষ্করনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। এখানেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের নারী ফুটবলাররা।

সিরাত জাহান ও ইশরাত জাহানদের সাফল্যের পথ ধরেই পালিচড়া এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে নারী ফুটবলারদের গ্রাম হিসেবে। ২০১১ সালে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা প্রাথমিক স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সাফল্য আনে পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই আসরে জাতীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হয় পালিচড়ার মেয়েরা। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথচলা।

পালিচড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পালিচড়া এম এন উচ্চ বিদ্যালয়। রাস্তার পাশেই বড় একটি মাঠ, যেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে মেয়েদের জন্য স্টেডিয়াম। মাঠের পশ্চিম কোণায় রয়েছে সদ্যপুস্করনী উন্নয়ন সংস্থা ও সদ্যপুস্করনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। এখান থেকেই বাংলাদেশ নারী লিগেও অংশগ্রহণ করে দলটি।

ক্লাবটির সভাপতি ও কোচ মিলন খানের হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে পালিচড়ার মেয়েরা। এএফসির ‘বি’ লাইসেন্সধারী কোচ মিলন খান সকাল-বিকেল খুদে ফুটবলারদের নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করান।

তিনি জানান, ২০১২ সালে বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৪ সালে রানার্সআপ, ২০১৫ সালে ব্র্যাক কিশোরী ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এবং কেএফসি জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে দলটি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও দলটি জেতে ফেয়ার প্লে ট্রফি। ২০১৬ সালে কেএফসি সিনিয়র ন্যাশনাল উইমেন চ্যাম্পিয়নশিপে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে রানার্সআপ, ২০১৮ সালে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৯ সালে জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২০ সালে রানার্সআপ হয় পালিচড়ার মেয়েরা।

এছাড়া ২০২১ সালে ক্রীড়া পরিদপ্তরের বিচ ফুটবলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২১-২২ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জাতীয় গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে রংপুর বিভাগীয় দলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। এশিয়ান কাপেও অংশ নিয়েছেন পালিচড়ার কয়েকজন ফুটবলার।



বিডি-প্রতিদিন/এমই



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews