২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্স-আপ ফ্রান্স এবারো বিশ্বকাপের অন্যতম শীর্ষ দাবিদার হিসেবে আসছে। তবে বিশ্বের এক নম্বর র‌্যাঙ্কিংধারী দলটিকে গ্রুপ ‘আই’-এ সেনেগাল ও নরওয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এই গ্রুপে আন্ডারডগ হিসেবে রয়েছে ইরাকও।

গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে ফ্রান্স দুবার শিরোপা জিতেছে এবং আরো দুবার টাইব্রেকারে ফাইনাল হেরেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়, যদিও সেই মহাকাব্যিক ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

এবারের বিশ্বকাপ হবে দীর্ঘদিনের কোচ দিদিয়ের দেশ্যমের অধীনে ফ্রান্সের শেষ টুর্নামেন্ট। ২০১২ সাল থেকে তিনি দলের দায়িত্বে আছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন জিনেদিন জিদান।

দেশ্যম জানেন তাদের গ্রুপটি অত্যন্ত কঠিন। অতীতেও ফেবারিট হিসেবে হোঁচট খেয়েছে ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে গিয়ে তারা কোনো গোল না করেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।

সেবার সিউলে উদ্বোধনী ম্যাচে তারা সেনেগালের কাছে হেরেছিল। এবারো তারা চাইবে না ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটুক। আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’-র মুখোমুখি হবে।

দেশ্যম বলেন, এটি সবচেয়ে কঠিন গ্রুপগুলোর একটি। সেনেগালের সাথে আমাদের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, কারণ তাদের অনেক দ্বৈত নাগরিক খেলোয়াড় ফরাসি ক্লাবে খেলেছে এবং ফরাসি খেলোয়াড়দের ভালোভাবে চেনে। আর নরওয়ে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল।

ফ্রান্সের আক্রমণভাগ বিশ্ব ফুটবলে ঈর্ষণীয়। এর নেতৃত্বে রয়েছেন অধিনায়ক এমবাপ্পে- যিনি এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার সাথে আরো রয়েছেন বর্তমান ব্যালন ডি’অর বিজয়ী ওসমানে দেম্বেলে। এ ছাড়া দলে আছেন মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকির মতো তারকারাও।

২০০২ সালে ফ্রান্সকে হারিয়ে সেনেগাল তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য- কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। এবারো তারা আরো দূরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

তবে তাদের প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে জানুয়ারির আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালের বিতর্কে। অতিরিক্ত সময়ে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারালেও, ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকদের পক্ষে দেয়া পেনাল্টির প্রতিবাদে সেনেগাল খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। এর জেরে পরে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন তাদের শিরোপা কেড়ে নেয়। সেনেগাল এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করেছে।

সেনেগালের দলে এখনো নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাদিও মানে। বর্তমানে তার বয়স ৩৪। চোটের কারণে তিনি গত বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন।

অন্যদিকে নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ফিরছে এবং ইউরো ২০০০-এর পর এটিই তাদের প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।

কোচ স্টালে সোলবাকেনের অধীনে নরওয়ের সাফল্যের কেন্দ্রে রয়েছেন আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির ২৫ বছর বয়সী এই সুপারস্টারকে ২১ শতকের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ধরা হয়।

নরওয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে বোস্টনে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের মুখোমুখি হবে এবং শেষে আবার বোস্টনে ফিরে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে।

সেই ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হালান্ডের মুখোমুখি হবেন এমবাপ্পে। ইতালির বিপক্ষে হোম ও অ্যাওয়ে জয়সহ বাছাইপর্বে আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছিলেন হালান্ড। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করছেন আর্সেনালের প্লেমেকার মার্টিন ওডেগার্ড এবং এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সোরলথ।

এই তিন দলই পরবর্তী পর্বে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে খেলবে। পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।

বিশ্বকাপে খেলতে পারাটাই ইরাকের জন্য বিশাল অর্জন। তারা সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। বাছাইপর্বে তাদের মোট ২১টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নাটকীয় এশিয়ান প্লে-অফও ছিল।

মার্চে মেক্সিকোতে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরাক।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews