গত পহেলা ফেব্রুয়ারি টটেনহামের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক রেফারি রবার্ট জোন্সকে নিয়ে করা মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) পরে এক বিবৃতিতে জানায়, তার এই মন্তব্যের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মন্তব্যের জন্য আচারণবিধি ভঙ্গের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
লন্ডনে চোটজর্জর টটেনহামের-এর মুখোমুখি হয়েছিল ম্যান সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলের লিড নিয়ে সহজ এক জয়ই দেখছিল পেপ গার্দিওলার দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। বিরতির আগে রায়ান শেরকি অ্যান্তনি সেমেনিওর গোলে এগিয়ে যাওয়া সিটি ৫৩ ও ৭০ মিনিটে গোল খেয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড ডমিনিচ সোলাঙ্কে সিটির ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুশানোভ এবং মার্ক গেহির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে শেষ পর্যন্ত গেহির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান হয়ে যায় ২-২। রদ্রির দাবি ছিল, গোলটি হওয়ার আগে সোলাঙ্কে সিটি ডিফেন্ডারের পায়ে লাথি মেরে ফাউল করেছিলেন, তবু গোলটি বৈধ ধরা হয়।
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রদ্রি বলেন, ‘আমরা হতাশ, কারণ এটা স্পষ্ট ফাউল ছিল—সে পায়ে লাথি মেরেছে। এসব ছোট বিষয়েও নজর দিতে হবে, নাহলে সবার জন্যই কঠিন হয়ে যাবে, কারণ এই লিগ ছোট ছোট পার্থক্যের ওপরই নির্ভর করে। আমরা অনেক জিতেছি বলে হয়তো অনেকেই আমাদের জিততে দেখতে চায় না, কিন্তু রেফারিকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এটা ন্যায্য নয়, কারণ আমরা অনেক পরিশ্রম করি। ম্যাচ শেষ হলে এমন সিদ্ধান্তে হতাশা থাকেই।’
রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে এফএ জানায়, ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করে ম্যাচ অফিসিয়ালের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে রদ্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা এফএ নিয়ম ৩.১-এর পরিপন্থী।
এফএ আরও জানায়, অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য রদ্রিকে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্তর জমা দিতে বলা হয়েছে। ঠিক কতদিনের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন রদ্রি তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সিটি অধিনায়ক শাস্তি পেলে বড় ধাক্কাই খাবে তাঁর ক্লাব। লিগে বর্তমানে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে সিটিজেনরা।
রদ্রি শেষ পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা পান কি না, বা পেলেও তার মেয়াদ কতদিন হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে রেফারির পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেওয়ার নজির কম, তবে প্রিমিয়ার লিগে কোচদের এমন মন্তব্যের জন্য শাস্তি পাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ২০২৩ সালের মে’তে লিভারপুল কোচ ইয়র্গেন ক্লপ রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম