চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেকে আলাদাভাবে তুলে ধরতে এখন অনেক প্রার্থী বেছে নিচ্ছেন ভিডিও সিভি। হাজারো লিখিত সিভির ভিড়ে নিয়োগদাতারা যেখানে গড়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন, সেখানে ৬০ থেকে ৯০ সেকেন্ডের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রার্থীকে দিতে পারে বাড়তি সুবিধা। বিশেষ করে যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনার ক্ষমতা যাচাইয়ে ভিডিও সিভি হয়ে উঠছে কার্যকর মাধ্যম।
মার্কেটিং, সেলস, মিডিয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো পেশায় ভিডিও সিভি বেশ ফলপ্রসূ। যেসব পদে সরাসরি উপস্থাপনা বা ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এটি প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তবে অত্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর বা পর্দার আড়ালের কাজের ক্ষেত্রে ভিডিও সিভির প্রয়োজন তুলনামূলক কম।
ভিডিও সিভি দীর্ঘ করা যাবে না। সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করাই ভালো। শুরুতে নিজের পরিচয় ও কোন পদের জন্য আবেদন করছেন তা স্পষ্টভাবে বলতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দক্ষতা ও অর্জন তুলে ধরতে হবে সংক্ষেপে। প্রয়োজনে পরিসংখ্যান ব্যবহার করে সাফল্য ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
কাগজের সিভিতে যা লেখা আছে, ভিডিওতে তা হুবহু পুনরাবৃত্তি না করে বরং ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ ও বিশেষ অভিজ্ঞতার দিকগুলো তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন ক্যারিয়ার পরামর্শকরা। ভিডিওর শেষে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা উচিত।
দামি ক্যামেরা না থাকলেও ভালো মানের স্মার্টফোনেই ভিডিও ধারণ করা সম্ভব। অন্তত ১০৮০ রেজোলিউশন নিশ্চিত করা ভালো। প্রাকৃতিক আলোতে, পরিচ্ছন্ন পটভূমিতে ভিডিও ধারণ করলে মান ভালো হয়। প্রয়োজনে রিং লাইট বা ল্যাপেল মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যেতে পারে।
ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা বলা, স্বাভাবিক হাসি বজায় রাখা এবং আত্মবিশ্বাসী দেহভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক হতে হবে পেশাদার ও সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভিডিও সরাসরি ই-মেইলে সংযুক্ত না করে প্রথমে ইউটিউব, ভিমিও বা গুগল ড্রাইভের মতো প্ল্যাটফর্মে আপলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাইভেসি সেটিং ‘আনলিস্টেড’ করে লিংকটি সিভি বা কভার লেটারে যুক্ত করা যেতে পারে। চাইলে সিভিতে কিউআর কোড সংযোজন করেও ভিডিওতে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা যায়।
ভিডিও সিভি কখনোই প্রথাগত লিখিত সিভির বিকল্প নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী পরিপূরক। সঠিক পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে এটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখতে পারে।