গণহারে অ্যাটাক ড্রোন উৎপাদনের মহোৎসবে মেতেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের শুরুতেই বড় ধরনের কৌশলগত প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, ড্রোনের মোটর সচল রাখার জন্য যে বিশেষ ধরনের শক্তিশালী চুম্বক ও বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট) প্রয়োজন, তার বৈশ্বিক জোগানের প্রায় ৯৮ শতাংশই এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চীন। ফলে চীনের ওপর মার্কিন ড্রোনের এই অতি-নির্ভরশীলতা এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন) আমেরিকার ইতিহাসে ড্রোন তৈরির সবচেয়ে বড় গোপন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রাথমিক ধাপে ৩০ হাজার ‘ওয়ান-ওয়ে’ (আত্মঘাতী) ড্রোন তৈরির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ২০২৮ সালের মধ্যে এই সংখ্যা তিন লাখের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে সস্তা ড্রোনের কার্যকারিতা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ নির্বাহী আদেশের পর এই গতি আরও বাড়ানো হয়েছে।
ড্রোনের মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তির জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটে ইতোমধ্যেই ১৩.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু শত কোটি ডলারের এই বিশাল তহবিলও মূল কাঠামোগত সংকট দূর করতে পারছে না, কারণ ড্রোনের ভেতরকার মূল কলকব্জা তৈরির চাবিকাঠি রয়ে গেছে বেইজিংয়ের হাতেই।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র ড্রোন নয়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সিস্টেম ও সেন্সরসহ প্রায় ১,৯০০টি যুদ্ধাস্ত্রের ৮০ হাজার যন্ত্রাংশ চীনা খনিজের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণ ইলেকট্রনিক্সের জন্য হালকা খনিজ উপাদানের বিকল্প বাজারে পাওয়া গেলেও সামরিক ড্রোনের উচ্চ তাপমাত্রার মোটর এবং যুদ্ধবিমানের চরম বৈরী পরিবেশে কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে ডাইসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো ভারি বিরল খনিজের প্রয়োজন হয়। এই বিশেষ উপাদানগুলো ছাড়া সামরিক গ্রেডের শক্তিশালী চুম্বক তৈরি করা অসম্ভব, যার একচেটিয়া বাজার এখন চীনের দখলে। বেইজিং যদি কোনও কারণে এই খনিজের সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ড্রোন উৎপাদন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়বে।
এই সংকট কাটাতে মার্কিন সরকার এখন হন্যে হয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে। ভলকান ও আরইঅ্যালয়সের মতো কিছু পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর আমেরিকায় খনি থেকে শুরু করে চুম্বক উৎপাদন পর্যন্ত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির চেষ্টা চলছে। পেন্টাগন দেশীয় উৎপাদকদের বড় অঙ্কের ঋণ ও প্রণোদনাও দিচ্ছে। তবে আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন খনির অনুমোদন ও সেটি সম্পূর্ণ সচল করতে প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়, যা সামগ্রিকভাবে প্রায় ২৯ বছরের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ফলে রাতারাতি চীনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানো পেন্টাগনের জন্য কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। সূত্র: গালফ নিউজ
বিডি প্রতিদিন/একেএ