কিউবা ও ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, মস্কো বিশ্বাস করে যে এই দুই দেশের মানুষই তাদের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করার একমাত্র অধিকার রাখে। রাশিয়ায় ‘কূটনীতিক দিবস’ উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ল্যাভরভ এই মন্তব্য করেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একতরফা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সামরিক হস্তক্ষেপÑসব ধরনের নব্য-উপনিবেশবাদী আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই করা রাশিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা ভেনেজুয়েলা এবং কিউবার জনগণের সাথে আমাদের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছি। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল তারাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।’ ল্যাভরভ জানান, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের উদ্যোগে ইউরেশীয় অঞ্চলে একটি সমান ও অবিভাজ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে রাশিয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে বেলারুশ (নিরাপত্তা গ্যারান্টি) এবং ইরান ও উত্তর কোরিয়া (ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্ব) চুক্তি অন্যতম।
রাশিয়া বর্তমানে ‘গ্লোবাল মেজরিটি’ বা বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সাথে বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার করছে। ল্যাভরভ তার বক্তব্যে চীন, ভারতসহ সমমনা দেশগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া সিএসটিও, ইএইইউ, সিআইএস, এসসিও এবং ব্রিকস-এর মতো জোটগুলোর মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ওপর তিনি জোর দেন। পরিশেষে, ল্যাভরভ রুশ কূটনীতিকদের সুশৃঙ্খল ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত বৈদেশিক নীতিগত লক্ষ্যগুলো সফলভাবে অর্জিত হয়।
এদিকে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তথকথিত ‘মাদক পাচারকারী’দের একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবারের এই অভিযানে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে ওই নৌযানটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে যাচ্ছিল এবং তারা সরাসরি মাদকপাচার কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিল।
সংক্ষিপ্ত এই অভিযানের পর সাউদার্ন কমান্ড আরও জানায়, হামলায় নৌযানে থাকা দুইজন নিহত হয়েছেন। একজন আরোহী অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ডকে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশ রুখতে মার্কিন বাহিনী নিয়মিত এই অঞ্চলে টহল ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। তবে সরাসরি সামরিক হামলার মাধ্যমে প্রাণহানির ঘটনা এই রুটে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। সূত্র : তাস।